মিসরের ‘রাজা’র বিশ্বকাপে ফেরা

সংগৃহীত ছবি
মোহাম্মদ সালাহকে বলা হয় মিসরের রাজা। কিন্তু তার তো নিজস্ব কোনো সাম্রাজ্য নেই। সালাহকে এই রাজা খেতাব কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়নি, বরং এটি দিয়েছিলেন ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের সমর্থকরা। লিভারপুলের গ্যালারি থেকে এই উপাধি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। নিজ দেশ মিসরেও তিনি এখন একজন সত্যিকারের রাজা বা জাতীয় বীরের মর্যাদা পান।
নিজ ক্লাবে এবং দেশে সালাহর এরকম জয়জয়কার হওয়াটা স্বাভাবিক। ২০১৭ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর তিনি পৌঁছে গিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। ক্লাবের হয়ে খেলে তিনি প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয় করেছেন। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাও বেশ দীর্ঘ।
জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি তৈরি করেছিলেন ইতিহাস। ২৮ বছর পর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে মিসরকে কোয়ালিফাই করান সালাহ। বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয় পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি দেশকে বিশ্বকাপে নিয়ে যান। সেই ম্যাচের পর সালাহর মর্যাদা মিসরের মানুষের কাছে আকাশচুম্বী হয়ে যায়।
তবে দলকে এত বড় একটা অর্জন এনে দেওয়ার পরও একটা আক্ষেপ থেকে গিয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বকাপের ঠিক আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে পাওয়া কাঁধের ইনজুরির কারণে সালাহ সম্পূর্ণ ফিট ছিলেন না। প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তিনি গোল করেন; কিন্তু সামগ্রিকভাবে মিসর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আট বছর পর সালাহর সামনে সুযোগ এসেছে সেই আক্ষেপ দূর করার। তার মূল লক্ষ্য হবে দলকে সম্মানজনক একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। সালাহর বিশ্বকাপ অভিযানে প্রথম প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। দিনটি এই ফরোয়ার্ডের জন্য আরও বিশেষ, কারণ সেদিন তার জন্মদিন। তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের জন্মদিনকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচের জন্য মোহাম্মদ সালাহর ওপর ভরসা রাখছেন কোচ হোসাম হাসান, ‘সালাহ আমাদের কৌশলের মূল ভিত্তি এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সম্পূর্ণ ফিট ও খেলার জন্য প্রস্তুত তিনি।’


