মায়ামিতে মেসি উন্মাদনা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মায়ামি এখন লিওনেল মেসির শহর। রোজারিও থেকে ৬ হাজার ৮১৭ কিলোমিটার দূরের হলেও মায়ামির মানুষ ঘরের ছেলে মনে করেন মেসিকে। তার জাদুর ছোঁয়াতেই যে বদলে গেছে একটি শহরের ফুটবল সংস্কৃতি। শুধু মায়ামি কেন, মেসির মায়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এখন বেসবলকে পেছনে ফেলে জনপ্রিয়তায় তৃতীয় সেরা খেলা ফুটবল।
মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব ৫৬ মিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে বেড়ে পৌঁছেছে ২৫০ মিলিয়ন ডলারে! ক্লাবের নিজস্ব আর্থিক মূল্য ৫৮৫ মিলিয়ন ডলার থেকে আকাশচুম্বী হয়ে এমএলএস-এরই সেরা ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার। তাকে নিয়ে এতটাই মাতামাতি যে, প্রতিপক্ষ দলগুলো নিজেদের ছোট স্টেডিয়ামের বদলে মেসিদের ম্যাচ নিয়ে যায় লাখখানেক ধারণক্ষমতার গ্যালারিতে!
সেই মায়ামিতে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে মেসিকে নিয়ে উন্মাদনা হওয়াটা স্বাভাবিক। সেটি হচ্ছেও। স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টিনা থেকে আসা ৫০ হাজারের বেশি ফুটবলভক্ত। মায়ামির সমুদ্রসৈকতও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে আর্জেন্টাইনদের ভিড়ে। সেই উন্মাদনা বাড়াতে কানসাস সিটি থেকে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা এখন মায়ামিতে। বিশ্বকাপের কড়া নিরাপত্তায় নিজের শহরে আসতে অবশ্য কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল মেসিকে। বিমানবন্দরে তাকে তল্লাশি করা হয় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। তার আগে ডিফেন্ডার রোদ্রিগো দে পলকেও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করতে দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছিলেন মেসি। মায়ামিতে বিশ্বকাপের ম্যাচটি অবশ্য ইন্টার মায়ামির স্টেডিয়ামে নয়, গড়াবে ‘মায়ামি ডলফিনস’-এর হোম ভেন্যু হার্ডরক স্টেডিয়ামে। টেইলর সুইফট, শাকিরার মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা পারফর্ম করেছেন এখানে। মেসির ২০২৪ সালের কোপা জয়ও এই স্টেডিয়ামে।
সেখানেই আজ উৎসবের অপেক্ষায় আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। রূপকথা লিখে নকআউটে পৌঁছানো কেপ ভার্দে অবশ্যই ছেড়ে কথা বলবে না। তবে মেসি যে ছন্দে আছেন তাতে তাকে আটকাতে অলৌকিক কিছুই করতে হবে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নকআউটে নাম লেখানো কেপ ভার্দের। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার সঙ্গে মেসি করেছিলেন জোড়া গোল। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি নেমে গোল করেছেন চোখধাঁধানো ফ্রি-কিকে। এবারের বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে মেসি। মেসিকে থামাতে গোলপোস্টে চীনের প্রাচীর হয়েই থাকবেন কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনহা। দলটির সহকারী কোচ হুমবার্তো বেতেনকোর্ট বলেছেন, ‘আমরা জানি মেসি একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন। তবে আমরা সবসময় প্রতিপক্ষের দলীয় পারফরম্যান্সের দিকে তাকাই— তারা কী ধরনের কম্বিনেশন তৈরি করতে পারে, কিংবা মেসির জন্য তারা কীভাবে ফাঁকা জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে, সেটাই আমাদের ভাবনার বিষয়।’
আর্জেন্টিনা অবশ্য বেশি চিন্তিত নিজেদের নিয়ে। একাদশে লাউতারো মার্তিনেস নাকি হুলিয়ান আলভারেস, সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনার হয়ে শততম ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া লিওনেল স্কালোনি। ১৪৩ মিনিট মাঠে কাটিয়েও কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি আলভারেস। অথচ কাতার বিশ্বকাপে ৪ গোল করে আলভারেস ছিলেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। সেবার পাঁচ ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেছিলেন তিনি, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে করেছিলেন জোড়া গোল। একাদশে তার প্রতিদ্বন্দ্বী লাউতারো মার্তিনেস পেনাল্টি থেকে করেছেন শুধু এক গোল।
এই সমস্যার মধ্যে স্কালোনির মুখে হাসি ফুটেছে ক্রিস্তিয়ান
রোমেরো চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফেরায়। আজ তাকে স্কালোনি একাদশে রাখেন কি না, সেটিই দেখার।




