কেপ ভার্দে চমকে দিয়েছে মেসিদের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ নিয়ে আগে থেকেই অনেক জল্পনা-কল্পনা হচ্ছিল। ম্যাচটা কেমন হবে? কেপ ভার্দে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে কি না বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের? সত্যি বললে, তাদের খেলা আর্জেন্টিনা এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একেবারেই চমকে দিয়েছে।
কেপ ভার্দে ম্যাচের শুরু থেকেই ঠান্ডা মাথায় শতভাগ মনোযোগ দিয়ে খেলেছে। আর্জেন্টিনাও এভাবেই শুরু করেছিল। চিরাচরিত পজেশন ধরে রেখে খেলছিল এবং গোলের সুযোগ তৈরির অপেক্ষায় ছিল। সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটা মেসি করেন নিজের ক্যারিশমা দেখিয়ে।
কেপ ভার্দে লো ডিফেন্সিভ ব্লক করে খেলছিল। ব্যাকলাইন এবং গোলকিপারের মধ্যে তেমন স্পেস ছিল না। মেসির ক্যারিশমায় গোল পায় আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের হাওয়ায় ভাসানো বলটা মেসি ডিফেন্স লাইনের পেছনে রিসিভ করেন ফার্স্ট টাচে এবং সেকেন্ড টাচে টপ কর্নার অব দ্য পোস্টে পাঠিয়ে দেন। বিরতিতে থেকে ফিরেই আর্জেন্টিনাকে চমকে দেয় কেপ ভার্দে। দুয়ার্তের গোলটা ছিল অসাধারণ।
ম্যাচে সমতার পর িনজের টেরিটরিতে মেসি বেশ কয়েকটা ফ্রি-কিক পেয়েছেন। তবে একটাও গোলে পরিণত করতে পারেননি। এর কৃতিত্ব কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার, যিনি সব মিলিয়ে আটটি সেভ করে নিজেকে আরেকবার চিনিয়েছেন।
খেলা অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার পর লিসান্দ্রোর গোল আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেয়। কেপ ভার্দে অবশ্য হাল ছাড়েনি। তারা একের পর এক আক্রমণ চালায়। মনে হচ্ছিল যেকোনো সময় গোল করে ফেলবে। সেটিই হয়েছে। সিডনি লোপেজ বাঁপ্রান্ত থেকে চমৎকার রাইট ফুটেড স্ট্রাইকে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করেন। এটিকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল বলব।
পরে অবশ্য নার্ভ ধরে রেখে ম্যাচটা টাইব্রেকারে যেতে দেয়নি আর্জেন্টিনা। মেসির আরেকটি কর্নারে ক্রিস্তিয়ানো রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের এক ডিফেন্ডারের শরীর স্পর্শ করে জালে জড়ায়। আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনা বড় বাধা পেরিয়ে যায়।
এই ম্যাচটা আর্জেন্টিনার জন্য বড় সতর্কবার্তা। তারা যতই অগ্রসর হবে, ততই পথটা কঠিন হবে। ভাবনার বিষয় হলো আর্জেন্টিনার ব্যাকলাইন। বিশেষ করে দুই ফ্ল্যাঙ্ক ও ফুলব্যাক এরিয়ায় অনেক ভুল আছে তাদের। এসব জায়গায় দৃষ্টি না দিলে সামনে বড় বিপদ উঁকি দিচ্ছে মেসিদের।




