১৬ দিনে ৫০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো

সংগৃহীত ছবি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ব্যক্তিগত জেটে ৫০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি মাত্র ১৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর আয়োজক শহরগুলোতে ২৪টি ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করেছেন।
বিবিসির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিযোগিতা শুরু থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ফিফার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমানটি ২৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। মোট দূরত্ব ছিল অন্তত ৫০,১২২ কিলোমিটার এবং আকাশে কাটানো সময় ছিল ৬৬ ঘণ্টারও বেশি।
ফিফা নিজেই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য একটি টেকসই উন্নয়ন কৌশল প্রস্তুত করেছে, যেখানে জলবায়ু, মানবাধিকার এবং পরিবেশগত প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইনফান্তিনোর এই বিমান ভ্রমণ সরাসরি সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিবিসি ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য ও স্টেডিয়ামে ইনফান্তিনোর উপস্থিতির ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করেছে যে ম্যাচগুলোতে যোগ দিতে তিনি প্রাইভেট জেটই ব্যবহার করেছেন।
সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রাটি হয় ১৩ জুন, যেদিন অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরস্ক ম্যাচ দেখার পর বিমানটি ভ্যাংকুভার থেকে মায়ামিতে প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটার পথ উড়ে যায়। আরেকদিন ইনফান্তিনো মায়ামি থেকে সিয়াটল এবং একই দিনে সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ উপভোগ করেন।
প্রতিবেদনের হিসাবে, গ্রুপ পর্বে ওই বিমানটি প্রায় ৫১৬ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড সমতুল্য নির্গমন করেছে। অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিমানটি ছিল গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর মডেলের। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি জানিয়েছে, এই পরিমাণ নির্গমন একজন গড় মানুষের ৭৮ বছরের কার্বন নির্গমনের সমান।
ফিফা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কোন বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল, কতজন সফরসঙ্গী ছিলেন বা কার্বন নির্গমন অফসেটের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। সংস্থাটি কেবল জানিয়েছে, ইনফান্তিনো ফিফার ব্যবসায়িক ও প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত কাজে প্রয়োজনীয় কর্মীসহ নিয়মিত ভ্রমণ করেন এবং দক্ষতা ও সাশ্রয়ের বিচারে বাণিজ্যিক বা চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের গবেষক ও কুল ডাউন সংগঠনের সদস্য ফ্রেডি ডেলি বলেন, ‘এই ঘটনা পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের প্রশ্নে ফিফার ব্যর্থতার প্রতীক।‘




