ড্রেসিংরুমে ইরানের আবেগঘন চিঠি

সংগৃহীত ছবি
এই বিশ্বকাপে খেলতে আসা তাদের জন্য যুদ্ধের চেয়ে কম ছিল না। শত বাধা, প্রতিকূলতা, নিষেধাজ্ঞার হুমকি মাথায় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছে ইরান দল। মেক্সিকোর বেস ক্যাম্প থেকে খেলতে এসে ম্যাচের পরপরই ভেন্যু ছাড়তে হচ্ছে তাদের। এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ড্র করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় ড্রেসিংরুমে ইরান রেখে গেল আবেগঘন এক চিঠি।
এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই ড্র করেছে ইরান। জিততে না পারলেও মাঠে তাদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়াচ্ছে সবদিকেই।
সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম তখন প্রায় ফাঁকা। নিয়ম মেনে দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে ইরান ফুটবল দলকে। যাওয়ার আগে ইরানের ফুটবলাররা রেখে গেল একটি ছোট্ট চিঠি। কয়েকটি লাইনের সেই বার্তা যেন শুধু স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের জন্য নয়, ছিল পুরো বিশ্বের উদ্দেশে।
ইরানের এই চিঠি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে নানা কারণেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে ইরান। প্রথম ম্যাচের মতো আজও বিশ্রাম না নিয়েই মেক্সিকোতে ফিরছেন তারা। তাই বিদায়ের আগে রেখে যাওয়া এই বার্তা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন সেই চিঠির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায় চিঠিতে তারা লিখেছে, ‘হাজার হাজার বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের চেতনা জীবন্ত ও অটল রয়েছে।’
চিঠিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইরান, ‘ধন্যবাদ লস অ্যাঞ্জেলেস, আপনাদের আতিথেয়তার জন্য। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম গর্ব নিয়ে, সম্মানের সঙ্গে লড়েছি এবং এখন মর্যাদা নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছি।’
সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বিশ্বের সব দেশে শান্তি বজায় রাখার বার্তাও রয়েছে ইরানের চিঠিতে, ‘প্রত্যেক ইরানিয়ানকে ধন্যবাদ, যারা তাদের হৃদয়, আওয়াজ এবং প্রাণ দিয়ে ১৮০ মিনিট আমাদের সমর্থন দিয়েছে। প্রত্যেক দেশের মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’
নীল কালিতে লেখা ওই চিঠিতে লাল কালিতে ‘৭৬৮’ এবং ‘মিনাব’ নামে দুটি শব্দ উল্লেখ করেছে ইরান। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি স্কুল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ১৬৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছিল।
ইরান ফুটবল দলের এই বার্তা কি বিশ্ব বিবেকের কাছে পৌঁছাবে?





