৯৫ মিনিটে মার্তিনেল্লি ম্যাজিক

সংগৃহীত ছবি
যোগ করা সময়ে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোল বিশ্বকাপে বাঁচিয়ে রাখল ব্রাজিলকে। জাপানের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতে শেষ ষোলোতে পা রাখল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জাপান।
হিউস্টনে ম্যাচের শুরু থেকে জাপানই আধিপত্য বিস্তার করে খেলছিল। প্রেসিং, ইন্টারসেপশন সবকিছুতেই ব্রাজিলকে কোণঠাসা করে রাখে ব্লু সামুরাইরা। গোলও তারা আদায় করে নেয় ম্যাচের ২৯ মিনিটেই। দানিলোর পাস ধরে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন কাইশু সানো। প্রথমার্ধ শেষে একাদশে বেশ কিছু বদল আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। লুকাস পাকেতাকে তুলে এনদ্রিককে নামান, তাতেই খেলায় গতি ফিরে পায় ব্রাজিল। যে দলটাকে মনে হচ্ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করতেই পারছে না, তাদের পায়েই ফেরে সাম্বার ছন্দ। ফলও আসে দ্রুতই। গাব্রিয়েলের ক্রস থেকে হেড করে গোল দিয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো। মিনিট দুয়েক পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল, কিন্তু বল ফিরে আসে বারপোস্টে লেগে। সমতায় ফেরার পর মাথেউস কুনিয়াকে তুলে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামান আনচেলত্তি। এই সুপার সাবই শেষ মুহূর্তের গোলে হৃদয় ভেঙেছেন জাপান সমর্থকদের।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে জাপানের বক্সে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছেন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ফুটবলাররা। মার্তিনেল্লিরই একটা শট গেছে পোস্ট ঘেঁষে। দুটি কর্নার পায় ব্রাজিল, শেষের কর্নার থেকেই গোলের সূচনা। জাপানের ডি বক্সের ভেতর বলটা জটলা থেকে নিজের পায়ে নেন রায়ান, তার পাস খুঁজে পায় ব্রুনো গিমারেসকে। বলটা তিনি আলতো করে ঠেলে দেন মার্তিনেল্লির দিকে, তার ডান পায়ের নিচু শটটা জিওন সুজুকির আওতার একটু বাইরে দিয়ে গিয়ে পোস্টে লেগে ঢুকে যায় জালে। ম্যাচের তখন যোগ করা সময়ের খেলা চলছিল। জাপানের কোচ দুজন রক্ষণের খেলোয়াড়ও নামিয়েছেন কিছুক্ষণ আগে, তারা চাইছিলেন ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে ঠেলে নিতে। এমন সময়ে মার্তিনেল্লির গোল হৃদয় ভেঙে দেয় জাপান সমর্থকদের।
নকআউটের প্রথম ম্যাচেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইনজুরি সময়ের গোলে জিতেছে কানাডা। একই দৃশ্যের মঞ্চায়ন দেখা গেল ব্রাজিল-জাপান ম্যাচেও। ১-১ সমতা থেকে ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই মার্তিনেল্লির গোল উড়িয়ে দিল সব শঙ্কা। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা গোল করতে পারা মার্তিনেল্লি ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না নিজের আনন্দ প্রকাশের, ‘এই আনন্দ প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। গ্যালারিতে দর্শকদের দাঁড়িয়ে সমর্থন জানাতে দেখা, আমার বাবা-মা, আমার বন্ধুদের সেখানে পাওয়া... সত্যি আমি বলে বোঝাতে পারব না। (শটের বলটি) পোস্টে আঘাত করার পরও আমি জানতাম যে আরেকটি সুযোগ আমি পাবই। আমি সত্যিই ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমি বাঁ প্রান্তে খেলি কিংবা মাঠের মাঝখানে (স্ট্রাইকার হিসেবে)— দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি, এটিই সবচেয়ে বড় কথা। দলের উপকার করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ হেরে গিয়েও মাথা উঁচু করেই বিদায় নেওয়ার কথা জানালেন জাপানের কোচ হাজিমে মোরাইয়াসু, ‘আমরা বিশ্বমঞ্চে জাপানি ফুটবলের লড়াকু মানসিকতা তুলে ধরেছি, কিন্তু এই স্তরের খেলায় সামান্যতম ভুলত্রুটিরও কোনো সুযোগ নেই; এখানে সফল হতে হলে একদম নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।’
জাপানকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল ব্রাজিল, সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা হবে নরওয়ে-আইভরি কোস্ট ম্যাচের জয়ী দলের।




