বেলিংহাম
আমার ইংল্যান্ড ক্যারিয়ারের সেরা রাত

মেক্সিকো সিটির ৭ হাজার ৩০০ ফুট উচ্চতার এস্তাদিও আজতেকা তখন জ্বলন্ত এক আগ্নেয়গিরি। ৮০ হাজার মেক্সিকান সমর্থকের গগনবিদারী চিৎকার, কানফাটানো হর্ন আর বৈরী আবহাওয়ার সবটুকু চাপ আছড়ে পড়ছিল ইংলিশদের ওপর। এই নরককুণ্ডে দাঁড়িয়ে জুড বেলিংহাম ম্যাচের ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে যখন মেক্সিকোর জাল কাঁপালেন, থমকে গেল পুরো স্টেডিয়াম! স্থব্ধ হয়ে গেল গ্যালারি।
মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ঝড়ে মেক্সিকোকে কোণঠাসা করে ১০ জনের দল নিয়ে ম্যাচের বাকি সময় বুক চিতিয়ে লড়াই- সব মিলিয়ে সোমবারের ম্যাচটি ক্যারিয়ারের সেরা মানছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ম্যাচ শেষে বেলিংহামের সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি, ‘সম্ভবত অনেক দিনের মধ্যে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা জয় এটি। আমার ইংল্যান্ড ক্যারিয়ারের সেরা রাত।’ ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারির প্রবল চাপ আর অক্সিজেনের ঘাটতি পরীক্ষা নিচ্ছিল ইংলিশদের। কিন্তু বেলিংহামের মাথায় তখন ঘুরছিল অন্য পরিকল্পনা। ৩৬ মিনিটে হ্যারি কেনের চমৎকার পাস বাতাসে ভেসে আসার মুহূর্তেই চিতার ক্ষিপ্রতায় হেড নেন বেলিংহাম। বল জালে জড়াতেই স্তব্ধ আজতেকা। প্রথম গোলের রেশ কাটার আগেই, ঠিক ৯৮ সেকেন্ড পর আবারও মেক্সিকান রক্ষণকে চূর্ণ করে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেক্সিকোর টানা ১০ ম্যাচের অপরাজিত দুর্গে বেলিংহামের এই জোড়া আঘাত ছিল ভূমিকম্পের মতোই ভয়ংকর। তবে ম্যাচের গল্পে নাটকীয়তা বাকি ছিল আরও। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে ডিফেন্ডার জ্যারেড কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। এর পরের সময়টা ছিল কেবলই টিকে থাকার, দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের। মাঝমাঠে বেলিংহামকে তখন একাধারে আক্রমণ সামলাতে হয়েছে, আবার নিচে নেমে মেক্সিকানদের একের পর এক ঢেউয়ের মতো আসা আক্রমণ রুখতে হয়েছে। হ্যারি কেনের পেনাল্টি এবং পরবর্তীতে মেক্সিকোর রাউল হিমেনেসের গোলে ম্যাচ যখন ৩-২, তখন শেষ ২১ মিনিট আর অতিরিক্ত ১১ মিনিটের ইনজুরি টাইম যেন শেষই হতে চাইছিল না। মেক্সিকোর একের পর এক আক্রমণের সামনে সতীর্থদের আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেছেন বেলিংহাম। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত কিন্তু তৃপ্ত বেলিংহাম বলেন, ‘আজ রাতে আমরা অবিশ্বাস্য কিছু একটা করে দেখিয়েছি, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিমানের ভেতর গলা না ভাঙা পর্যন্ত আমরা গান গাইব, আনন্দ করব। এরপর দুদিন রিকভারি করে সোজা নরওয়ে ম্যাচের দিকে মন দেব।’
টমাস টুখেলের দলের এই জয়ে আনন্দের পাশাপাশি আছে জর্ডান হেন্ডারসনের গুরুতর চোটের বিষাদ। ম্যাচ শেষের উদযাপনের সময় বিজ্ঞাপনী বোর্ডের ওপর পড়ে গিয়ে কবজিতে চোট পেয়ে হাসপাতালে গেছেন হেন্ডারসন। বেলিংহামরা তাই এই জয় উৎসর্গ করছেন মাঠের সেই লড়াকু মানসিকতাকেই, যা তাদের নিয়ে গেল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।






