আর্জেন্টিনাকে ঘিরেই যত বিতর্ক

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আর বিতর্ক চলে হাত ধরাধরি করে। সেই প্রথম বিশ্বকাপেই ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বল নিয়ে দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থান থেকে দুই অর্ধে দুই বল দিয়ে খেলা থেকে বিতর্কের শুরু, ৯৪ বছর পর মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে এসেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি আর্জেন্টিনার। ১৯৭৮ সালে পেরুর ফুটবল ফেডারেশনকে ঘুষ দিয়ে ম্যাচ পাতিয়ে বেশি গোল দেওয়া, ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে গোল; সবকিছুর সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপে যোগ হয়েছে বেশ কিছু নতুন অধ্যায়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকে মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা পাঁচটি ম্যাচের চারটিতেই উঠেছে পক্ষপাতিত্বপূর্ণ রেফারিংয়ের অভিযোগ। মিসরের ফুটবলার মোস্তফা জিকো তো ম্যাচ শেষে বলেই দিয়েছেন, লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপটা রুপোর থালায় সাজিয়ে তুলে দেওয়ারই প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শুরুতেই আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় আলজেরিয়ার। ম্যাচের ৩১ মিনিটে আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির পায়ের পেছনে বুটের স্পাইক দিয়ে আঘাত করেছিলেন লিওনেল মেসি। এজন্য তাকে কোনো কার্ড দেখাননি পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মার্সিনিয়াক, অথচ একই রকম ফাউলের জন্য বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিয়ান বালোগুন।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। মেসির গোলের আগে আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের ফাউলে ভূমিশয্যা নেন অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার জাভের শালাগার। অস্ট্রিয়ান ফুটবলারদের অভিযোগ, আর্জেন্টিনাকে আক্রমণ চালিয়ে যেতে না দিয়ে সেখানেই ফাউলের জন্য খেলা থামিয়ে ফ্রি-কিক দেওয়া উচিত ছিল অস্ট্রিয়ার অনুকূলে, যেটা রেফারি আমিন ওমর দেননি। ভিএআরে ব্যাপারটা দেখা হলেও ভিজ্যুয়াল রেফারিরা মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করারই সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচের পর অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক রেফারিংয়ের মানের দ্বৈত নীতির কড়া সমালোচনা করেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর রাউন্ডের ম্যাচেও ছিল বিতর্কের ছায়া। গোলকিপার ভোজিনহা যখন সামনে মানবপ্রাচীর সাজাচ্ছেন, তখন আচমকাই ফ্রি-কিক নিয়ে নেন মেসি। এর বাইরেও ম্যাচে রেফারি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, এমন অভিযোগও এসেছে পর্তুগিজ ভাষার গণমাধ্যমগুলোয়।
তবে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের সীমা ছাড়িয়ে গেছে ফরাসি রেফারি ফ্রাঙ্কোইস লেতেক্সিয়ারের। মোস্তফা জিকোর করা মিসরের দ্বিতীয় গোলটি ভিএআরে বাতিল করেন রেফারি, কারণ হিসেবে দেখানো হয় গোলের বিল্ডআপে মারওয়ান আতিয়া ফাউল করেছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে। যদিও এরপর হোসেম হাসান বল পেয়েছেন, তার কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কমপক্ষে তিন আর্জেন্টাইন, তিনি মো. সালাহকে পাস দিয়েছেন আর সালাহর পাসে গোল করেছেন জিকো। ফাউলের ঘটনাস্থল থেকে মাঠের পুরো বিপরীত প্রান্তে ১০০ গজের মতো দূরত্বে গোলে শট নিয়েছেন জিকো; তবুও সেই গোলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রেফারি। ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার জিমি ক্যারাঘার বলেছেন, অন্য কোনো দলের বিপক্ষে হলে গোলটা বৈধতা পেত, ‘আমি আপনাদের বলছি, এটা যদি অন্য কোনো দলের বিপক্ষে হতো, তবে অবশ্যই গোল দেওয়া হতো। এমনকি প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা বা সিরি-এ-তে হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পরও এটি গোল হিসেবেই বহাল থাকত। ইদানীং এই টুর্নামেন্টে সিদ্ধান্তের প্রচুর অমিল ও ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে।’
এদিকে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করা পুরো দলকেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে মিসরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।





