বিশ্বকাপ
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ৭ ঘণ্টা আটকে ইরাকি স্ট্রাইকারকে জেরা

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার টিকিট পেয়ে উৎসবে মেতেছিল ইরাক। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় পা রাখতেই সেই আনন্দ রূপ নিল এক তিক্ত অভিজ্ঞতায়। বিশ্বকাপ খেলতে গতকাল শনিবার ভোরে সতীর্থদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান ইরাকের প্রধান স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেইন। তবে শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরই তাকে দল থেকে আলাদা করে নিয়ে যান মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। সেখানে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ইরাকি অলিম্পিক কমিটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ম্যারাথন জেরার পর ৩০ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকারকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে দলের অফিসিয়াল আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখার পর দেশটিতে প্রবেশ করতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
ভোররাতেই ইরাক দল যখন শিকাগো পৌঁছায়, তখন শত শত সমর্থক দেশের পতাকা হাতে প্রিয় ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ভিড় করেছিলেন। কিন্তু দলের মূল নায়ককে ছাড়াই বাকি ফুটবলারদের হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয়।
ইরাকি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আয়মেন হুসেইনকে দীর্ঘ সময় ধরে কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। হুসেইনের অতীত পারিবারিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০৮ সালে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় আয়মেনের বাবা নিহত হন। ২০১৪ সালে আয়মেনের ভাইকে অপহরণ করে আইএস (ইসলামিক স্টেট), যার সন্ধান আজও মেলেনি। তবে হুসেইন মুক্তি পেলেও কপাল পুড়েছে দলের আলোকচিত্রী তালাল সালাহর। ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতীয় দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। একইভাবে তার ফোন পরীক্ষা করার পর শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
ইরানের ১৫ জন ভিসা পাননি!
০৭ জুন ২০২৬
এই নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে ইরাকি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা আয়মেন হুসেইন নিজে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বকাপের ঠিক মুখে মার্কিন কর্তৃপক্ষের এমন কড়াকড়ি আচরণে ক্ষুব্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবল মহল। ইতিমধ্যে ইরান দলও মার্কিন ভিসা জটিলতা ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ফুটবলের মহোৎসবে জায়গা করে নিয়েছে ‘লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়া’ খ্যাত ইরাক দল। আয়মেন হুসেইনই প্লে-অফে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করে দলকে বিশ্বকাপে তুলেছিলেন। আগামী ১৭ জুন বোস্টনে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরাকের বিশ্বকাপ শুরু হবে। কঠিন গ্রুপ ‘আই’-তে ইরাকের বাকি দুই প্রতিপক্ষ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও আফ্রিকান জায়ান্ট সেনেগাল।






