স্পটকিক রুখে দিতে কৌশলী গোলকিপাররা

ছবি: রয়টার্স
৩৬ ফুট দূর থেকে থেমে থাকা বলে শট নেবেন একজন, ১৯২ ফুট জায়গাটা পাহারা দিয়ে রাখবেন একজন। এটাই পেনাল্টি শট। কখনো ডি বক্সের ভেতর ফাউল বা হ্যান্ডবলের সাজা, কখনো ড্র হওয়া ম্যাচে বিজয়ী খুঁজে বের করার উপায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটো ম্যাচে ফল নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে, পেনাল্টি শুট আউটের মাধ্যমে। জার্মানি-প্যারাগুয়ে ও মরোক্কো-নেদারল্যান্ডস, এই দুটো ম্যাচে হারজিতের ফয়সালা হয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের নেয়া ২২টা স্পটকিকে। যার ভেতর ১০ জন খেলোয়াড় গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন যা একদিনে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস হওয়ার রেকর্ড।
গোলরক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি যার একটা বড় কারণ হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি-টেকারদের সম্পর্কে দলের ভিডিও অ্যানালিস্টরা আগাম প্রস্তুত করে রাখেন গোলকিপারদের, বিশেষজ্ঞ গোলকিপিং কোচও সেই অনুসারে তালিম দেন; তাই পেনাল্টি শুট আউট এখন আর স্রেফ ভাগ্যের জোড়ে জেতা যাবে না, এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক ব্র্যাড ফিডেল।
গোল বাঁচানোর জন্য গোলকিপাররাও তৈরি থাকেন, যেমনটা মরোক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বনু করেছেন নেদারল্যান্ডসের ক্রিসেনসিও সামারভিলের পেনাল্টি ঠেকাতে। রিয়াল সল্ট লেক ও নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের গোলকিপিং কোচ টড হফার্ড বলেছেন, ‘ এখন আর ভাগ্যের উপর নির্ভর করে ঝাঁপ দেয়ার দিন নেই। গোলকিপার কখনো কখনো ভুল করবেই, কারণ মুহূর্তের কয়েকভাগের একভাগ সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে আন্দাজে ঝাঁপ দেয়ার দিন শেষ। পেছনে এখন অনেক প্রস্তুতি জড়িত।’
গোল করার জন্য দৌড়ে আসার সময় অনেক পেনাল্টি টেকারই শেষ মুহূর্তে একটু থেমে গোলকিপারদের বিভ্রান্ত করতে চান, কেউ জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়েন, দেখেন গোলকিপার কোনদিকে ঝাঁপাতে চাইছে। তবে এই বিশ্বকাপে দেখা গেছে গোলকিপাররা অপেক্ষা করছেন শট নেয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত।
ফুটবলে গোলকিপারদের পেনাল্টি ঠেকানোর ক্ষমতা কেবল ভাগ্য বা লটারির খেলা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্রীড়া উপাত্ত অনুযায়ী গোলকিপারকে অভিজ্ঞতা, চটপটে ভাব এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে দূরদর্শিতার একটি সমন্বিত ফল। অভিজ্ঞ গোলকিপাররা শ্যুটারের শারীরিক গতিবিধি ও রান-আপের বিভিন্ন দৃশ্যমান সংকেত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে বলের গতিপথ আগে থেকেই অনুমান করতে পারেন, যা একজন কম অভিজ্ঞ গোলকিপারের চেয়ে তাদের অনেক বেশি কার্যকর করে তোলে। যদিও শেষ পর্যন্ত গোলকিপারের গোল বাঁচানোর চেয়ে গোল হজমের সংখ্যাটাই বেশি হয় টাইব্রেকারে, এবং এর মাধ্যমেই ফল আসে। তবুও একরাতে ১০টা পেনাল্টি সেভ বুঝিয়ে দিল, এখন লড়াইটা আর একপেশে থাকছে না বরং গোলকিপাররা হয়ে উঠেছেন আরও প্রস্তুত ও কৌশলী।




