ব্রাজিলের সঙ্গী ১০ টন বাক্স

কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে ব্রাজিল এখন হেক্সা মিশনে। শুধু ফুটবলার ও কোচিং স্টাফ নয়, বিশ্বকাপের এই সফরে ব্রাজিলের সঙ্গী হচ্ছে ১০ টন বাক্সপ্যাটরা!
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। দলটির সঙ্গে গেছে প্রায় ১০ টন সামগ্রী। তাতে আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ উপকরণ, পুষ্টিবিষয়ক সামগ্রী এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলার সময় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে ব্রাজিলের সঙ্গে আছে একটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাকেন্দ্রও। উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধপত্র এবং খেলোয়াড়দের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে সেখানে।
বিশ্বকাপ চলাকালে ব্রাজিলের সদস্যরা যেন নিজেদের ‘পরিচিত পরিবেশে’ থাকতে পারে, এজন্য সবকিছু সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দলের মেডিকেল বিভাগ, ফিজিওথেরাপিস্ট, পুষ্টিবিদ এবং পারফরম্যান্স বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করবেন, দল যেন এ যাত্রায় কিছুর অভাব বোধ না করে।
দলটির কর্মকর্তারা মনে করেন, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে সাফল্য পেতে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি লজিস্টিকস ও চিকিৎসা প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিল চার বছর আগে কাতারে যে পরিমাণ সামগ্রী নিয়েছিল, এবার তার প্রায় দ্বিগুণ নিয়েছে। তখন অবশ্য ব্রাজিল শুধু একটি শহরেই অবস্থান করেছিল। তাদের কিটের সংখ্যাও ছিল কম।
ব্রাজিলের ফিজিওলজিস্ট গুইলহের্মে পাসোস বলেছেন, ‘নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের ট্রেনিং সেন্টারে আমাদের মতো অনেক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো থাকলেও, আমাদের হোটেলের মতো কারোরই মেডিকেল বিভাগ নেই। আমরা যেসব হোটেলে যাই, সেখানেই মেডিকেল বিভাগ স্থাপন করি। আমরা সব ফিজিওথেরাপি সরঞ্জাম নিয়ে যাই, যেমন লেজার, আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, শকওয়েভ থেরাপি যন্ত্র। এটি প্রায় একটি মোবাইল অ্যাম্বুলেন্স সেবার মতো।’
এবারের বিশ্বকাপ সফরে ব্রাজিল দলের সঙ্গে আছেন ৯১ জন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, মেডিকেল ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ, নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তারা।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানে তাই শুধু তারকা ফুটবলাররাই যাচ্ছেন না। যাচ্ছে পুরো এক ‘অপারেশন সেন্টার’! আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবেন সেলেসাওরা।




