কেউ ফেভারিট নয় আনচেলত্তির

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২৪ বছর আগে। এর পর থেকে ক্রমেই তলানিতে যেতে থাকে দলটির পারফরম্যান্স। হারিয়ে যায় ফুটবল মাঠের চেনা সাম্বার ছন্দ। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে ব্রাজিল দলটিকে যেন আর চেনা যাচ্ছিল না। একসময়ের পরাক্রমশালী দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে মাত্র ৫১ শতাংশ জয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেওয়ার আগে সেই ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচে ফিফা র্যাংকিংয়ের ৩৩তম দল পানামাকে দেখিয়ে দিয়েছে তাদের আসল রূপ। বাড়িয়ে দিয়েছে সমর্থকদের প্রত্যাশা।
গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্রাজিল দলটিকে যেন জাদুর ছোঁয়ায় বদলে দিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে ওঠার আগে সেই আনচেলত্তির চোখে দেখা গেল জল। এক ভিডিওবার্তায় বিশ্বকাপগামী দাদুর জন্য শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে তার নাতি-নাতনিরা। তা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ‘ডন’ কার্লো। একপর্যায়ে বলে দেন, ‘পরিবারের কথা ভাবলে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারি না।’
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে আনচেলত্তি জানালেন, এই বিশ্বকাপে কেউ ফেভারিট নয়। ব্রাজিল সব দলকেই হারাতে পারে।
কোচদের জীবন এমনই; দেশ ছেড়ে, পরিবার ছেড়ে বছরের পর বছর পড়ে থাকতে হয় অন্য কোনো দেশে। হেক্সা মিশন সফল করতে ব্রাজিল ফুটবল এতটাই মরিয়া হয়ে পড়েছে যে, তারা দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে দেশীয় কোচের জায়গায় এনেছিল আনচেলত্তিকে, তাও আবার প্রায় তিন বছর অপেক্ষার পর। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আনচেলত্তিকে এনে ব্রাজিলের অপেক্ষা ঘুচলেও সুপারস্টার নেইমারের অপেক্ষার প্রহর যেন ফুরোচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আনচেলত্তির অধীনে তার মাঠেই নামা হয়নি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়েছে অনেক শর্ত মেনে। বিশ্বকাপ যাত্রার ঠিক আগে টিম হোটেলের বাইরে সেই নেইমারকে ঘিরেই ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দেখা গেল উন্মাদনা। নিরাশ করেননি ড্রিবলিং জাদুকর। টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে হাসিমুখে এগিয়ে গেছেন ভক্তদের কাছে, হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, মিটিয়েছেন তাদের ছবি তোলার আবদার। দিয়েছেন অটোগ্রাফও। নেইমারের এই হাসিমুখ বিশ্বকাপেও দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে অবশ্য সংশয় আছে। এর প্রধান কারণ— তার ফিটনেস।
চোটপ্রবণ এই মহাতারকা বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেও সম্প্রতি ফের আক্রান্ত হয়েছেন ইনজুরিতে। ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে নেইমারকে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফিট হয়ে উঠলেও তাকে একাদশে সুযোগ পেতে বেশ লড়াই করতে হবে। কারণ, মারাকানার শেষ ম্যাচেই আনচেলত্তি দেখিয়ে দিয়েছেন তার রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি।
এত নেতিবাচক তথ্যের ভিড়েও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রার মধ্যমণি নেইমার। সমর্থকদের কাছে নয়নের মণি। তাকে ঘিরেই ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল। হেক্সা মিশনে যাত্রা শুরুর আগে ব্রাজিল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মিউজিয়ামটিও ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের। সেই মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে ব্রাজিল ফুটবলের সোনালি ইতিহাস, পাঁচ পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা আর মধুর সব স্মৃতি। পাঁচ শিরোপার ঘ্রাণ নিয়ে সোমবার হেক্সা অভিযানে দেশ ছেড়েছেন নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা।
পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যান সবকিছু মিলিয়ে কোনোভাবেই ব্রাজিলকে আসন্ন বিশ্বকাপের হট ফেভারিট বলার সুযোগ নেই। খোদ ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরোও মেনে নিলেন সেটি, ‘আমরা এবার ফেভারিট নই। আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দল আছে এবারের বিশ্বকাপে।’




