সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গ্যাসের সঙ্গে আমি কখনো রাগ করি না। রাগ করার মতো সম্পর্কও অবশ্য আমাদের মধ্যে নেই। কেননা তার সঙ্গে যে আমার দেখাই হয় না। গ্যাস বাসায় সম্মানিত অতিথির মতোই আসেন। কখন আসবেন, কতক্ষণ থাকবেন— কিছুই জানিয়ে আসেন না। হঠাৎ আসেন, হঠাৎ চলে যান। আমরা শুধু অপেক্ষা করি তার জন্য।
কাল দুপুরে আমাদের বাসার কেউই ভাত খায়নি। খেয়েছে পাউরুটি, বিস্কুট আর কলা। আজ দুপুরে ভাত জুটেছে বটে, তবে সেই ভাত আজকের নয়। কাল সারা দিন গ্যাসের অপেক্ষায় বসেছিলাম। গ্যাস মহোদয় আসেননি। তবে একেবারে হতাশও করেননি তিনি। যখন গভীর রাতে ঘুমাতে গেলাম, ঠিক তখনই হাজির।
গ্যাস এলে রান্নাঘরটা আর রান্নাঘর থাকে না, হয়ে যায় জরুরি অপারেশন থিয়েটার। কোন হাঁড়িটা আগে বসবে, কোনটা পরে— সবকিছু ঠিক হয়ে যায় সেকেন্ডের মধ্যে। কারণ সবাই জানে, গ্যাসের ওপর ভরসা করা যায় না। তিনি বিদায় নিতে পারেন রান্নার মাঝপথেও।
গ্যাস এলে কোনো ঘোষণা দেওয়ারও দরকার নেই। একজন টের পেলেই পুরো বাসা জেনে যায়। যে প্রথম টের পায়, সে ‘গ্যাস, গ্যাস’ বলে চিৎকার করে ওঠে। তারপর শুধু দেখা যায় দৌড়। যে যেখানে ছিল, সেখান থেকেই দৌড়। সবারই লক্ষ্য একটাই— রান্নাঘর।
বাসা থেকে বেরিয়ে দেখি, একই ছবি সিএনজি স্টেশনেও। তবে চেহারা ভিন্ন। কী শৃঙ্খলা এখানে! সারিবদ্ধ গাড়িগুলো কত সুন্দর দাঁড়িয়ে আছে লাইনে। দেখে চোখে পানি এসে যায়। যে দেশে বাসে ওঠার জন্য লাইন হয় না, সেই দেশে গ্যাসের জন্য কয়েক কিলোমিটার লাইন!
ছোটবেলায় শুনতাম, গ্যাস নাকি জ্বালানি। এখন বুঝি, গ্যাস আসলে আশা। রান্নাঘরে একটু আগুনের অর্থ— আজ হয়তো ভাত হবে।




