আনচেলত্তির কাছেই হেরে গেল জাপান

ম্যাচে যখন ১-১ সমতা, তখন শেষ সময়ে মার্তিনেল্লিই গোল করে জিতিয়েছিলেন গানারদের।
কামব্যাক কিং কার্লো আনচেলত্তির কাছেই আসলে হেরে গেল জাপান। প্রথমার্ধে ব্লু সামুরাইরা যেভাবে চেপে ধরেছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের, তাতে মনে হচ্ছিল জাপান মাঠে নেমেছে ফেভারিটের তকমা গায়ে আর ব্রাজিল চেষ্টা করছে কোনোরকমে হার এড়ানোর। তবে শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তির কৌশলের কাছে হার মেনেছে জাপান, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে কোনোরকমে শেষ ১৬-তে পা রেখেছে ব্রাজিল।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই জাপানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ব্রাজিলের চিরাচরিত পাসিং গেম ও বিল্ডআপ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া। এই লক্ষ্যে প্রথমার্ধে জাপান মূলত দুটি ভিন্ন ফরমেশন (৫-২-৩ এবং ৫-৪-১) ব্যবহার করে একটি অভেদ্য ডিফেন্সিভ ব্লক তৈরি করে। জাপান তাদের সামনের তিন ফরোয়ার্ডকে মাঠের মাঝখানে খুব কাছাকাছি পজিশনে রেখেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রাজিলের মাঝমাঠে বল পাস দেওয়ার জায়গাগুলোকে আটকে দেওয়া।
ব্রাজিলের ডিফেন্ডার দানিলোর একটি ভুল আড়াআড়ি পাস ইন্টারসেপ্ট করে জাপান দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ব্রাজিলের মাঝমাঠের, বিশেষ করে কাসেমিরোর মন্থরগতির সুযোগ নিয়ে প্রায় ২২ মিটার দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে জাপানকে প্রথমার্ধেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় তাদের স্ট্রাইকার কাইসু সানো।
জাপানের এই কৌশলের টেক্কা দিতে আনচেলত্তি বদল আনেন একাদশে ও কৌশলে। প্রথমার্ধে লুকাস পাকেতা কিছুটা নিচে নেমে খেলার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের উইঙ্গাররা জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারছিলেন না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তি মাঝমাঠ দিয়ে পাসিংয়ের চেষ্টা কমিয়ে মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করে জাপানের পেনাল্টি বক্সে একের পর এক ক্রস করার কৌশলে খেলান দলকে। প্রথমার্ধে ব্রাজিল শুধু নিজেদের রক্ষণই সামলাতে ব্যস্ত ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আক্রমণে উঠে এলে সেটি জাপানকে চাপের মুখে ঠেলে দেয়। জাপানি ডিফেন্ডাররা বেশ কয়েকটি গোললাইন সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের আক্রমণ রুখতে পারেনি। লুকাস পাকেতাকে প্রথমার্ধের পর তুলে নিয়ে এনদ্রিককে নামিয়েছিলেন আনচেলত্তি, সমতায় ফেরার পর মাথেউস কুনিয়াকে তুলে নামানো হয় মার্তিনেল্লিকে। কুনিয়া এই বিশ্বকাপে তিন গোল করলেও মাঠে তার ভূমিকা মূলত সেকেন্ড স্ট্রাইকারের, বলের দখল রাখা, সতীর্থদের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করা। সেখানে মার্তিনেল্লি হলেন প্রথাগত ফরোয়ার্ড, যার শুটিং দক্ষতা আর চাপের মুখে গোল করার সামর্থ্যের প্রমাণ আনচেলত্তি পেয়েছেন হাতে কলমে! ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল, আর্সেনালের মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ আর লস ব্লাঙ্কোসদের ডাগআউটে আনচেলত্তি। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে যখন ১-১ সমতা, তখন শেষ সময়ে মার্তিনেল্লিই গোল করে জিতিয়েছিলেন গানারদের। এবার সেই একই কাজ করলেন মার্তিনেল্লি, তবে ব্রাজিলের হয়ে আর আনচেলত্তির পক্ষে!
২০২১-২৫ সময়ে রিয়ালের কোচ ছিলেন আনচেলত্তি। তার মেয়াদে রিয়াল ৩৬টি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও জিতে মাঠ ছেড়েছে, শুধু ২০২৩-২৪ মৌসুমেই সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করেও জিতেছে রিয়াল, যা তাদের ইতিহাসে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশিবার পিছিয়ে পড়েও জেতার রেকর্ড। এই বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে করেছে ড্র আর সবশেষ ম্যাচে ছিনিয়ে এনেছে শেষ মুহূর্তের জয়। রিয়ালের হয়ে জুয়ায় তো জিতেছেন এই ইতালিয়ান, ব্রাজিলের হয়ে কতটা কাজে দেবে তার ভাগ্য, সেটি বোঝা যাবে পরের ম্যাচেই।




