বিশ্বকাপ
রোনালদোর স্বার্থপর আচরণের কঠোর সমালোচনায় থিয়েরি অঁরি

সংগৃহীত ছবি
লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেরা যখন ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই গোল উৎসবে মেতেছেন, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শিবিরে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ড্রয়ের ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মাঠে তাঁর উপস্থিতি পর্তুগালের চেনা ও স্বাভাবিক খেলাকে ব্যাহত করছে কি না—তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবল পণ্ডিতরা।
ম্যাচ শেষে ফক্স স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠানে রোনালদোর অতিমাত্রায় ‘গোলক্ষুধা’ ও স্বার্থপরতার কড়া সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি। ম্যাচের একটি বিশেষ সুযোগের কথা উল্লেখ করে অঁরি বলেন, 'সেখানে গোল করাটা দলের জন্য প্রয়োজন ছিল, রোনালদোর নিজের নয়। ও নিজে গোল করতে চেয়েছিল বলেই পাস দেওয়ার পথে চলে আসে। ও যদি সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের দিকে যেত, তবে ডিফেন্ডার ওকে অনুসরণ করতে বাধ্য হতো এবং ব্রুনো ফার্নান্দেস খুব সহজেই ফাঁকায় বল পেয়ে গোল করতে পারত।'
বিবিসি ওয়ানের প্রাক-ম্যাচ ও পরবর্তী আলোচনায় পর্তুগাল অধিনায়ককে নিয়ে কথা বলেন ওয়েইন রুনি, অলিভিয়ের জিরুড ও ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার গায়েল ক্লিশি। তাদের মতে, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের সামনে নিজে শট নেওয়ার দারুণ সুযোগ থাকলেও কেবল রোনালদোর ‘সুপারস্টার’ ইমেজের কারণে তিনি বল পাস দিতে বাধ্য হন।
ক্লিশি নিজের আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা টেনে বলেন, 'ম্যাচের শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম রোনালদো তার অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণদের সাহায্য করবেন। কিন্তু কখনো কখনো অবচেতনভাবেই এই ধরণের বড় তারকারা দলের বাকিদের আলো কেড়ে নেন। সেখানে রোনালদো না থাকলে কনসেইসাও নিজেই শট নিতেন।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'দলে এমন বড় মাপের খেলোয়াড় থাকলে বাকিরা দায়িত্ব নিতে ভয় পায়। যখন আপনি তাদের মাঠ থেকে তুলে নেবেন, তখন দেখবেন বাকিরা দায়িত্ব নিয়ে খেলছে। রোনালদো মাঠে থাকলে দলের খেলা অনেক সময় আর স্বাভাবিক থাকে না।'
ক্লিশি অবশ্য এর জন্য পুরোপুরি রোনালদোকে দায়ী করছেন না। তার মতে, ম্যাচের এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার মূল দায়িত্ব কোচের। তিনি বলেন, '৯০ মিনিট জুড়েই আমাদের মনে হচ্ছিল, কোচ কি তাকে মাঠ থেকে তুলে নেবেন? কারণ আমরা জানি যেকোনো মুহূর্তে ও গোল করতে পারে। তবে একজন কোচের জন্য এমন মহাতারকাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সত্যিই কঠিন।'
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এই ড্রয়ের পর পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচের কৌশল এবং রোনালদোর একাদশে থাকা নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা এখন তুঙ্গে।




