কিং কেইনের কঙ্গো জয়

কিং কেইন। ছবি: সংগৃহীত
সপ্তম মিনিটেই বড় অঘটনের ইঙ্গিত দিয়ে এগিয়ে গেল কঙ্গো। বাঁদিক থেকে আক্রমণে উঠে এমবেম্বার ক্রস ধরে আড়াআড়ি শটে ইংল্যান্ড কিপার পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। দেশের হয়ে প্রথম গোলের উদযাপনটা হয়েছেও দেখার মতো। আফ্রিকান চিতার থাবায় রক্তাক্ত সিংহদের এরপর থেকে শুরু ফেরার লড়াই। শেষ পর্যন্ত সিংহরাজ হ্যারি কেইন আরেকবার জ্বললেন। তাতেই ছারখার কঙ্গোর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। কেইনের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড লিখেছে প্রত্যাবর্তনের এক মহাকাব্য। ২-১ গোলের জয়ে তারা পা রেখেছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে। ৬ জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো।
৭৫ থেকে ৮৬। ১১ মিনিটে জোড়া বিস্ফোরণে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোতে নিয়ে গেছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ম্যাচ শুরুর সপ্তম মিনিটে সিপেঙ্গার গোলের পর থেকেই শুরু ইংল্যান্ডের ফেরার মরিয়া চেষ্টা আর কঙ্গো কিপার লিওনেল এমপাসির অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ। রাশফোর্ড, বেলিংহাম, কেইনদের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে কঙ্গোর ইতিহাসের নায়ক হয়ে যেতে পারতেন এমপাসি। তবে কেইন কেড়ে নিলেন সব আলো।
টানা তিন বিশ্বকাপে গোল করা ডেভিড বেকহামের অনন্য রেকর্ডে আগেই ভাগ বসিয়েছিলেন। এ বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করে ভালোভাবেই থাকছেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে। সব মিলিয়ে বিশ্ব মঞ্চে কেইনের গোল এখন ১৩। আগের ম্যাচে গ্যারি লিনেকারের ১১ গোলের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রেকর্ডটা এখন কেইনের।
কঙ্গো ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরাটা স্মরণীয় করেছিল সেরা ৩২-এ এসে। প্রথমে গোল করে ইংল্যান্ডকে বিদায় করার স্বপ্নও দেখেছিল। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে হারের সান্ত্বনা নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে আফ্রিকার দলটিকে।
বিশ্বকাপে আফ্রিকার কোনো দলের বিপক্ষে না হারার রেকর্ডটা আরও বাড়িয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ১০ ম্যাচের এই অজেয় যাত্রা অব্যাহত রাখতে ২০২৪-এর ইউরোর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে ইংল্যান্ড। ইউরোর ফাইনালে যাওয়ার পথে তিন ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছিল থমাস টুখেলের দল। কেইনের জাদুতে এ ম্যাচেও ইংল্যান্ড হাসল শেষ হাসি।
বাঁদিক দিয়ে আক্রমণে উঠে সিপেঙ্গার অসাধারণ গোলের পর থেকে অবিশ্বাস্য সব সেভের জন্ম দিয়েছিলেন কঙ্গো কিপার এমপাসি। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহামের জোরালো হেড শেষমুহূর্তে রুখে দেন তিনি। চার মিনিট পর মার্কাস রাশফোর্ডের গোলমুখী শট গোললাইন থেকে ব্লক করেন কঙ্গো ডিফেন্ডার ওয়ান-বিসাকা। ৪২ মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে পারত কঙ্গো। বিসাকার ডানপ্রান্ত থেকে ক্রসে ইয়োয়ানে উইসার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরমুহূর্তে বক্সের ভেতরে কঙ্গো কিপার বল ধরতে গিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন কেইনকে। ইংলিশরা পেনাল্টির জোরালো দাবি করেছিল। তবে রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি। যোগ করা সময়ে হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে বেলিংহামের হেড অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে দেন কঙ্গো কিপার। খানিক বাদে কর্নার থেকে কেইনের প্লেসিং রুখে দিয়ে আরেকবার কঙ্গোর ত্রাতা হন এমপাসি।
৫৩ মিনিটে এমপাসি আরেকটি দুর্দান্ত সেভে লিড অক্ষুণ্ন রাখেন। কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে বেলিংহামের নেওয়া জোরালো শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন কঙ্গো কিপার। তবে ৭৫ মিনিটে সব প্রতিরোধ ব্যর্থ হয় এমপাসির। বক্সের বাঁদিক থেকে গর্ডনের ক্রসে কেইনের হেড ঝাঁপিয়ে গ্লাভস ছোঁয়ালেও রুখতে পারেননি তিনি। আর ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটি পেয়ে যান কেইন। গর্ডনের আড়াআড়ি পাস বক্সের ওপর পেয়ে জায়গা করে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।




