‘কালা হিরণ’ বিতর্কে সালমানের আবেদন, শুনানি পিছিয়ে দিল দিল্লি হাই কোর্ট

কালা হিরণ নিয়ে থামছেই না বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
অভিনেতা সালমান খানকে ঘিরে নির্মিতব্য চলচ্চিত্র কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি নিয়ে আরও বেড়েছে আইনি জটিলতা। ছবিটির প্রচার ও মুক্তি স্থগিত চেয়ে সালমান খানের করা আবেদনের শুনানি আবারও পিছিয়ে দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। ফলে ছবিটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আপাতত কাটছে না।
বুধবার বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের আদালতে মামলার শুনানি হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আদালত নির্মাতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, কবে এবং কীভাবে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাতাদের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত শুধু ছবির ট্রেইলার প্রকাশ করা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ ছবি মুক্তি পায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী সোমবারের আগে ছবিটি ছাড়পত্রের জন্য কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হবে না।
সালমান খানের অভিযোগ, তার অনুমতি ছাড়াই ছবিতে তার ব্যক্তিজীবন, ভাবমূর্তি এবং ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত অধিকারের পরিপন্থী। এ কারণেই আদালতের কাছে ছবিটির প্রচার ও মুক্তি স্থগিতের আবেদন করেছেন তিনি।
নির্মাতাদের পক্ষের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, আবেদনে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডকে পক্ষভুক্ত করেননি সালমান খান। অথচ কোনো চলচ্চিত্র মুক্তির আগে ওই বোর্ডের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী সোমবার নির্ধারণ করেছেন আদালত।
এদিকে ছবির প্রযোজক অমিত জানির দাবি, আদালতে সালমান খান কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না। তার ভাষ্য, ‘খ্যাতি বা তারকাখ্যাতি আদালতের রায় নির্ধারণ করে না। আইন সবার জন্য সমান।’
অমিত আরও দাবি করেন, আগের শুনানির মাত্র দুই দিন আগে মামলার নথি হাতে পেয়েছেন তিনি। ফলে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। তার অভিযোগ, পাকিস্তানে অবস্থানরত শাহজাদ ভাট্টি নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে সালমান খানের সঙ্গে সমঝোতা করার পরামর্শ দেন। তা না হলে তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন অমিত।
প্রযোজকের ভাষ্য, ছবিটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়নি। বরং বিশ্নোই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বন্যপ্রাণী ও কৃষ্ণসার হরিণ সংরক্ষণের ঐতিহ্য এবং সংগ্রামই এ চলচ্চিত্রের মূল বিষয়।
এখন মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর সংশ্লিষ্টদের। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ছবিটি মুক্তির পথে এগোতে পারবে কি না।




