ম্যাপল পাতায় বিশ্বকাপের হাওয়া
- আন্তর্জাতিক ফুটবলে আজই প্রথমবার মুখোমুখি কানাডা-বসনিয়া

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ম্যাপল পাতায় অবশেষে লেগেছে বিশ্বকাপের হাওয়া। কানাডার জাতীয় পতাকা থেকে মুদ্রা— সবখানেই এ জাতীয় প্রতীকের উপস্থিতি। কাঠ এবং রস, দুই-ই জুগিয়ে কানাডার মানুষের জীবনযাত্রায়ও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে এই গাছ। প্রথমবারের মতো নিজেদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপে কানাডা দলকে সমর্থন দিতে ম্যাপল পাতা আঁকা পতাকা হাতে টরন্টো স্টেডিয়ামে যেতে চাইছেন অনেকেই, কিন্তু টিকিটের চড়া মূল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধান বাধা।
১ হাজার ডলার দিয়ে টরন্টোয় জার্মানি-আইভরি কোস্ট ম্যাচের টিকিট কেনা হাসান জাভেদ অভিযোগ করেছেন, টিকিটের দাম কম হলে ভালো হতো। অন্যদিকে ২ হাজার ৬০০ ডলার দিয়ে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচের দুটি টিকিট কেনা হেনরি গোমস জানিয়েছেন, তিনি অন্যদিকে খরচ কমিয়েছেন, ‘আমি কফি কেনা কমিয়ে দিয়েছি। এই বছর বেসবলের বড় কোনো ম্যাচ কিংবা বড় কোনো কনসার্টেও যাব না ভাবছি। নতুন জামা ও জুতা কেনাও বাদ দিতে হবে।’ তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলছে কানাডা, এর আগে দুবার খেলেছে ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে। বিশ্বকাপে দুবার অংশ নিয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলে এখনো কোনো ম্যাচ জিততে না পারা কানাডার জন্য দেশের মাঠে প্রথম ম্যাচে হার এড়ানোটাই হতে পারে বড় সাফল্য। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। একসময়ে যুগোস্লাভিয়ার অংশ হয়ে থাকা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার আছে দীর্ঘদিনের ফুটবল সংস্কৃতি। এই বিশ্বকাপে তারা পা রেখেছে প্লে-অফ পর্বে ওয়েলস ও ইতালিকে হারিয়ে। ফিফা র্যাংকিংয়ে অবশ্য কানাডা এগিয়ে, তারা আছে ৩০তম স্থানে আর বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ৬৫ নম্বরে।
কানাডা দলের প্রাণভোমরা তাদের অধিনায়ক আলফানসো ডেভিস। বায়ার্ন মিউনিখে খেলা এ উইংব্যাক বাভারিয়ানদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ, সুপার কাপ, জার্মান লিগ, জার্মান কাপসহ অনেক শিরোপা জিতেছেন। বিশ্বকাপের চাপটা ভালোভাবেই নিতে পারার সামর্থ্য আছে তার। আক্রমণভাগে আছে জোনাথন ডেভিড, সবশেষ মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে ৩৫ ম্যাচে তার ৬ গোল। পরিসংখ্যানটা হতাশাজনক, যদি ডেভিডের পেছনের মৌসুমগুলোর দিকে তাকানো যায়, তাহলে আশার আলো খুঁজে পাওয়া সম্ভব। ফরাসি লিগের দল লিল থেকে গত মৌসুমেই ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছেন ডেভিড, তার আগে লিলের হয়ে পাঁচ মৌসুম খেলে ১৭৮ ম্যাচে ৮৭ গোল। কানাডা দলেও ফ্রান্সের মতো আফ্রিকা থেকে অভিবাসী হয়ে পরিবারে বেড়ে ওঠা বেশ কয়েকজন ফুটবলার আছেন যারা নিস, মার্সেই, ভিয়ারিয়াল, আন্ডারলেখটের মতো ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। অন্যদিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা তো ইউরোপেরই দল, দলের সবচেয়ে বড় তারকা এডিন জেকোর বয়সটা ৪০ হয়ে গেলেও একটা সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি, রোমা, ইন্টার মিলানের মতো ইউরোপের বড় দলগুলোয় খেলা এই ফরোয়ার্ড তার সেরা সময়ে পাল্লা দিয়েছেন লিওনেল মেসি-ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের সঙ্গেও। দলের অনেকেই জন্মেছেন সুইডেন, ক্রোয়েশিয়া কিংবা জার্মানিতে। পূর্বপুরুষের সূত্রে খেলছেন বসনিয়া-হার্জেগোভিনা দলে।
বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলে সবটিতেই হারা কানাডা যদি উদ্বোধনী ম্যাচটিই জিতে যায়, তাহলে তো একেবারে রূপকথার মতোই ব্যাপার হবে সেটা। আর যদি ড্র করে, তাতেও তো প্রথম পয়েন্টের দেখা পাওয়া যাবে।




