পরিসংখ্যান
এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথে কে সবচেয়ে সফল?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অদম্য ক্ষুধা, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের জাদুকরী ফুটবল। ডালাসের এআইটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এই দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।
এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলমেশিন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। নিজে গোল করার পাশাপাশি মোট ১১টি গোলে অবদান রেখেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ হয়ে উঠেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী।
পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় কথা, এমবাপ্পে এখন শুধু গোলই করছেন না, দলের প্রয়োজনে ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখছেন সমানতালে। ফ্রান্সের ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেনসের মতে, ‘জিনেদিন জিদান বা মিশেল প্লাতিনির চেয়েও বড় খেলোয়াড় হওয়ার পথে এমবাপ্পে। এই টুর্নামেন্টের পর তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’
অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছরের ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে। বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে খোদ জাভি হার্নান্দেজ তুলনা করেছেন মেসি, ম্যারাডোনা ও পেলের সাথে। এবারের বিশ্বকাপে যদিও গোলের দেখা খুব একটা পাননি, কিন্তু তার ট্যাকটিক্যাল প্রভাব স্পেনের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে বল পেলেই ইয়ামাল হয়ে ওঠেন ত্রাস। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার লড়াকু মানসিকতা কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে মুগ্ধ করেছে।
এখন পর্যন্ত ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন মোট ১০ বার। ইয়ামাল জয়ী হয়েছেন ৮টি ম্যাচে, এমবাপ্পের জয় মাত্র ২ ম্যাচে। জয়ের হিসেবে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও, গোল করার ক্ষেত্রে আধিপত্য এমবাপ্পের। এই ১০ ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি, আর ইয়ামাল গোল পেয়েছেন ৬টি। গত ইউরো এবং নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে ইয়ামালের হাত ধরেই। এবার কি পারবে ফ্রান্স সেই হিসাব চুকিয়ে ফাইনালে যেতে? নাকি ইয়ামাল আবারও দেখাবেন তার জাদু?






