আর্জেন্টিনায় মেসির পেনাল্টি বিভ্রাট
- ৮ শটের ৪টি মিস করে বিশ্বকাপে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড
- জাতীয় দলে ৩৭ শটের ২৭টি গোল, মিস ১০টি
- ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে মিস

তার জাদুর ঝুলিতে কী নেই? ড্রিবলিং, দূরপাল্লার জোরালো শট কিংবা বাঁকানো ফ্রি-কিক; সবেই তিনি সেরা। পুরো মাঠ জুড়ে যার রাজত্ব, সেই লিওনেল মেসির পা-ও যেন থমকে যায় গোলপোস্টের মাত্র ১২ গজ দূরত্বে এসে! বিশেষ করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে পেনাল্টি মানেই যেন মেসির জন্য অস্বস্তির অন্য নাম।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে পেনাল্টি নিতে তিনি বলের সামনে দাঁড়ালে বোধহয় কোটি আলবিসেলেস্তে ভক্তের বুক খানিকটা হলেও দুরুদুরু করে। জাতীয় দলের হয়ে পেনাল্টি নেওয়াটাকে বেশ কঠিনই বানিয়ে ফেলেছেন মেসি।
জাতীয় দলের জার্সিতে নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকার; সব মিলিয়ে মেসি পেনাল্টি নিয়েছেন ৩৭ বার। এর মধ্যে গোল পেয়েছেন ২৭টি। ১০ মিসের সুবাদে গোল পাওয়ার হার ৭২.৯ শতাংশ।
ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে মেসি নিয়েছেন ৩১টি পেনাল্টি। গোল করেছেন ২৩ বার, মিস ৮টি। এখানে শতকরা হার ৭৪.২ শতাংশ।
টাইব্রেকারে এই হার আরও কম। ৬ শটের ৪টি হয়েছে গোল। শতকরা হার ৬৬.৬।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথমবার পেনাল্টি নিয়েছেন ২০০৭ কোপা আমেরিকায়। কলম্বিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোলের দেখা পান মেসি। সবশেষ ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সিতে পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছেন মেসি।
২০২২ বিশ্বকাপ ছিল মেসির জন্য পয়া। ট্রফি জয়ের পাশাপাশি পেনাল্টিতেও ছিলেন সেরা। নির্ধারিত সময়ে ৫টি পেনাল্টি পেয়ে গোল করেছেন চারবার। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও পেয়েছেন গোল।
২০২৬ বিশ্বকাপটা অবশ্য পেনাল্টির দিক দিয়ে খুব একটা ভালো কাটেনি মেসির। অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে মিস করেছেন পেনাল্টি। আর এতেই মেসি গড়েছেন লজ্জার এক রেকর্ড। ৮ শট নিয়ে ৪টিতে মিস করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসিই সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা ফুটবলার!
পেনাল্টিতে মেসির সবচেয়ে আইকনিক মিস টাইব্রেকারে। সেও আবার কোপার ফাইনালে! ২০১৬ কোপার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে বারের ওপর দিয়ে বল মারেন মেসি। সেই ফাইনালে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। এমন হারে কান্নাভেজা চোখে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ই বলে দিয়েছিলেন লিও।
ক্লাব ফুটবলে কিন্তু পেনাল্টিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে নিয়েছেন ১০৫টি পেনাল্টি, গোল করেছেন ৮০ বার। শতকরা হার ৭৬.২। পিএসজির হয়ে ৩টি পেনাল্টির দুটিতেই পেয়েছেন গোল, শতকরা হার ৬৬.৭। ইন্টার মায়ামির হয়ে ৫ বারের মতো ৪বারই করেছেন গোল, ৮০ শতাংশে এখানে মেসি সবচেয়ে সফল। সব মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলে ১১৩ পেনাল্টির ৮৬টিই গোলে রুপান্তর করেছেন মেসি। গোলের হার ৭৬.৫।
জাতীয় দলের হয়ে পেনাল্টি মিস নিয়ে মেসি বরাবরই হতাশ। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর জিততে পারেনি দল। ড্রয়ের সেই দায় নিজের ওপরে নিয়েছিলেন মেসি, ‘পেনাল্টি মিস করায় আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, কারণ এটি আমাদের জয় এনে দিতে পারতো। পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পাওয়ার দায় আমি নিজের কাঁধেই নিচ্ছি।‘
২০২৬ বিশ্বকাপে মিসর ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পরেও নিজের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মেসি। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের পর মেসি বলেন, ‘আমি যে পেনাল্টিটি নষ্ট করেছি এবং যেভাবে এটি নিয়েছিলাম, তার জন্য খুব তীব্র ক্ষোভ অনুভব করছিলাম। আমার মনে হয়েছিল যে এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমি দলকে হতাশ করেছি।‘
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর মেসি বলেন, ‘আজ আমি পেনাল্টিটি মিস করার কারণে খুব রেগে গিয়েছিলাম। আমি খুব বাজে শট নিয়েছিলাম, আর সৌভাগ্যবশত আমরা পরিস্থিতিটি নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নিতে পেরেছিলাম। স্বস্তির এক জয় পেলাম!’



