বিশ্বকাপের সেই ব্যানারে মেতেছে আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্ম

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের একটি সাধারণ ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনা দেশটিতে আলোড়ন তুলেছে। এই ব্যানার আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের কাছে ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের দাবিকে এক নতুন সাংস্কৃতিক উন্মাদনায় রূপ দিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে জন্ম নেওয়া এই ‘মালভিনাস ম্যানিয়া’ এখন আর্জেন্টিনার টি-শার্ট, দেয়ালচিত্র আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে প্রভাব রাখছে ইতিহাস ও রাজনীতিতেও।
যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত, সেখানে ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ১০ সপ্তাহের একটি যুদ্ধ হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠের উদযাপনের সময় সমর্থকরা একটি সাদা চাদরে হাতে আঁকা হরফে লিখে দেন ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার।’ মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেস হাতে শোভা পাওয়া সেই ব্যানার মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
এই ঘটনার পর থেকেই আর্জেন্টিনায় শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব প্রচার বা মার্কেটিং বুম। ব্যানারটির হাতের লেখার অনুকরণে তৈরি ‘মালভিনাস স্যান্স’ ফন্ট হাজার হাজার তরুণ ডাউনলোড করেছেন। জুতো, ব্যাগ, স্টিকার, পপ কালচারের নানামুখী ডিজাইন থেকে শুরু করে দেওয়ালের গ্রাফিতিতে এখন শোভা পাচ্ছে সেই স্লোগান। রাজধানী বুয়েনস এইরেসের এক প্রিন্ট শপের মালিক জানান, খেলোয়াড়দের ব্যানারসহ জার্সি ছাপানোর অনুরোধ নিয়ে একদিনেই সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ হাজির হয়েছিলেন।১৯৮২ সালের সামরিক একনায়কতন্ত্রের পতনের পর দীর্ঘদিন এই সংঘাতের ট্রমা ও যুদ্ধাহতদের আত্মত্যাগকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি যেমন ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, তেমনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই বিশ্বকাপ ব্যানারটি নতুন এক মেলবন্ধন তৈরি করেছে। যুদ্ধাহত প্রবীণ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণদের মধ্যে নতুন করে এই ইতিহাস জানার যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের একটি দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী
রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত বুধবার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের
(এএফএ) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফিফা। ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও
সমর্থকরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালেও আর্জেন্টিনায় এর উল্টো প্রভাব পড়েছে। এই
বিতর্কের কারণে বিশ্বজুড়ে গুগল সার্চে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে কৌতূহল ও অনুসন্ধান
প্রায় ২ হাজার ৪০০ শতাংশ বেড়ে গেছে! গত চার দশক ধরে ব্রিটেন যে বিষয়টিকে গোপন রাখতে
চেয়েছিল, সেটাই নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে চলে এসেছে।










