এবার ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিল এশিয়া

বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফার প্রতিযোগিতার শেয়ার বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতায় এবার ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার পাশাপাশি সরাসরি যুক্ত হলো এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। ফিফার এই পরিকল্পনা বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য এবং এর সর্বজনীন চরিত্রকে নস্যাৎ করতে পারে বলে এএফসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এএফসি জানিয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। এটি পাস হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঐক্য বা সর্বসম্মত সমর্থন অর্জন করতে পারবে না। বিশ্বকাপ হলো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখর, যা প্রতিটি কনফেডারেশন ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল জাতিগুলোর অংশগ্রহণে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই এর ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে এমন যেকোনো প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করে এশিয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এএফসির এই বিরোধিতার ফলে সদস্য দেশগুলোর ভোটে ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা পাস হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো প্রস্তাব পাসে ১০৬টি ভোটের প্রয়োজন, যেখানে কেবল উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে ৯০টি ভোট রয়েছে এবং এশিয়ার রয়েছে ৪৬টি ভোট। এএফসি অভিযোগ করেছে, গুরুত্বপূর্ণ কোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই একতরফাভাবে দিকনির্দেশনা ঠিক করছে ফিফা। এই ধরনের অবমূল্যায়ন ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মূল দুর্বলতাকেই উন্মোচন করেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুংকার দেয়। একই সঙ্গে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। তবে ফিফার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’ এবং ভুল খবরের কারণে পরামর্শ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এদিকে আফ্রিকা এবং ওশেনিয়ার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা আগস্ট মাসে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবে। একের পর এক মহাদেশীয় সংস্থার বিরোধিতায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর এই উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগ পরিকল্পনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।





