চাপে পড়ে ফিফা বলল ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’

ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে মুখ খুলেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্র সংস্থা ফিফা। উয়েফা ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে বয়কটের হুমকির পর ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না।’ পাশাপাশি এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ফুটবলের ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের ৪১টি সদস্য দেশও এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। মূলত ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের একটি নতুন সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন এবং সেখানে বহিরাগত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সংখ্যালঘু ও নিয়ন্ত্রণহীন অংশীদারিত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছে, ভুল মিডিয়া রিপোর্টের কারণে তাদের নির্ধারিত পরামর্শ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছিল। প্রতিটি সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ভোট দিতে পারে, সেজন্য এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনরোষ ও উদ্বেগকে ফিফা সম্মান জানায় এবং একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আলোচনার প্রতি তারা প্রতিশ্রুতবদ্ধ।
ফিফার এই নতুন সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের উদ্দেশ্য হলো—বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক সুযোগের প্রকৃত মালিকানা প্রতিটি সদস্য দেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া, তবে এর ফলে ফিফা বা ফুটবলের মূল চেতনা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না। ফিফার নিয়মানুযায়ী, এই প্রস্তাব পাস করার জন্য ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোট প্রয়োজন। অথচ কেবল উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়েই মোট ৯৬টি অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে, যারা এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আগামী দিনে ইনফান্তিনোর জন্য এই পরিকল্পনা পাশ করানো রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষা হয়ে উঠবে।





