বিশ্বকাপে ইয়ামালকে নিয়ে স্পেনের বিশেষ পরিকল্পনা

সংগৃহীত ছবি
এবারের বিশ্বকাপে তিনিই দলের তুরুপের তাস। যে লামিন ইয়ামালকে নিয়ে পুরো স্পেনের এত পরিকল্পনা, সেই ইয়ামালই লড়ছেন চোটের সঙ্গে। এই তরুণ তুর্কিকে নিয়ে তাই পরিকল্পনা বদলাতে হচ্ছে স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তেকে। স্প্যানিশ কোচ বলছেন, বেশি সময় নয়; কার্যকরভাবে ইয়ামালকে খেলানোই তার মূল লক্ষ্য।
২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার অবশ্য বিশ্বকাপের আগে লড়ছেন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির সঙ্গে। এই মৌসুমে আর কাতালানদের হয়ে মাঠে নামা হবে না তার। সরাসরি বিশ্বকাপেই খেলবেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে খেললেও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্পোর্ত’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ইয়ামালকে টুর্নামেন্টের শুরুতে পুরো ম্যাচ খেলানোর চেয়ে অল্প সময়ের জন্য নামালে তিনি বেশি কার্যকর হতে পারেন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বদলি হিসেবে ইয়ামালকে খেলানো হতে পারে বলেই আভাস দিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। সব ঠিকঠাক থাকলে নকআউট পর্বে হয়তো শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন তিনি।
দে লা ফুয়েন্তে জানান, ‘দল নির্বাচন করার সময় আমরা সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখব। আপনি এগিয়ে আছেন কী না, পিছিয়ে আছেন কী না, কিংবা প্রতিপক্ষ ১০ জনে নেমে গেছে কী না। কিছু ফুটবলার আছে, যারা আপনাকে মাত্র ২০ মিনিট খেলেও বড় অবদান দিতে পারে। সেটিরও অনেক মূল্য আছে। অলমো চোট নিয়েই এসেছিল, আমরা প্রায় তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে সে ইউরোতে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।’
দে লা ফুয়েন্তে আরও জানান, ‘কিছু খেলোয়াড় হয়তো আপনাকে ৫০ বা ৬০ মিনিট দিতে পারবে না, কিন্তু তারা ২০ মিনিট খুব ভালো খেলতে পারে। সেটাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কিছু খেলোয়াড় ঠিক সময়মতো ছন্দে ফিরে নকআউট পর্বে নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেরা দলকে প্রস্তুত রাখা।’
এদিকে স্পেন দলের চিকিৎসক অস্কার সেলাদাও ইয়ামালকে নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের জন্য শুধু চোটমুক্ত হওয়াই যথেষ্ট নয়, তাকে সর্বোচ্চ ফর্মে ফিরতে হয়। চোট থেকে ফেরার পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আবার চোটে পড়া। বিশ্বকাপের সূচি এতটাই কঠিন, যেখানে তিন বা চার দিন পরপর ম্যাচ, ফলে বিরতি ছাড়া চলা সম্ভব নয়। আমরা ক্লাবগুলোর সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখি। এটি শুধু একবারের মেডিকেল রিপোর্ট নয়, বরং খেলোয়াড়ের প্রতিদিনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’





