অবশেষে জিতল মানচিনির ইতালি

তুরস্কের বিপক্ষে গোল করে ইতালির মাইকেল কায়োদের (ডানে) উল্লাস সঙ্গে তোনালি
রবার্তো মানচিনির ইতালির দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুটা ছিল হতাশার। বেলজিয়ামের কাছে হেরে গিয়েছিল তার দল। গত সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দে ফিরল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। নেশনস লিগে ইতালি ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তুরস্ককে। অন্য ম্যাচে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স ১-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়ামকে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়া খেলতে নামা ফ্রান্সের হয়ে ৮৮ মিনিটে একমাত্র গোলটি মাইকেল ওলিসের। প্রথম ম্যাচের একাদশ থেকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৯টি পরিবর্তন নিয়ে খেলে ফ্রান্স বোঝাল, সঠিক কক্ষেই আছে তারা।
তুরস্কের মাঠে নিজেদের হারিয়ে ফেলা ইতালি ফিরেছে ছন্দে। দলের হয়ে একটি করে গোল আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, দাভিদে ফ্রাত্তেসি, মাইকেল কায়োদে ও ফ্রান্সিসকো এসপোসিতোর। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে আটটি পরিবর্তন এনে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ছন্দে দলকে খেলান মানচিনি। তাতে ২৭ মিনিটেই তারা পেয়ে যায় ৩ গোল।
নবম মিনিটে কর্নারে তুরস্কের রক্ষণ বল বিপদমুক্ত করতে না পারায় জোরালো শটে বাস্তোনি এগিয়ে দেন ইতালিকে। ২২ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন দাভিদে ফ্রাত্তেসি। ২৭ মিনিটে এসপোসিতোর অ্যাসিস্টে ইতালিকে ৩-০’তে এগিয়ে দেন অভিষিক্ত মাইকেল কায়োদে। ৪৭তম মিনিটে তুরস্কের হয়ে এক গোল ফেরান বারিস ইলমাজ। এর ৩ মিনিট পর নিকোলো কামবিয়াঘির শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান ৪-১ করেন এসপোসিতো। ইতালির হয়ে এই ম্যাচে একসঙ্গে নামেন ফ্রান্সিসকো এসপোসিতো ও তার ভাই সেবাস্তিয়ানো এসপোসিতো। ইতালির হয়ে একই ম্যাচে মাঠে নামা ভাইদের তালিকায় তারা চতুর্থ। এই কীর্তি আগে ছিল আলদো ও জুসেপ্পে ও ফেলিচে মিলানোর (১৯১২-১৩), লুইজি চেভেনিনি (১৯১৫ সালে ) ও ফিলিপ্পো ও সিমোনে ইনজাগির (২০০০)।
ম্যাচ শেষে দলের প্রশংসায় কোচ মানচিনি বলেছেন, ‘এই কঠিন মাঠে দাপটে খেলায় আমি খুশি, এটা সহজ ছিল না। তাদের জন্য আমি গর্বিত।’
ব্রাসেলসে অন্য ম্যাচে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে ফ্রান্সের আঁদি দিউফ, জেহেমি জ্যাকে ও লুকা দা কুইয়ার। ২০১০ সালের আগস্টের পর ফ্রান্সের কোনো ম্যাচে একসঙ্গে তিন বা তার বেশি খেলোয়াড়ের অভিষেক এই প্রথম।
৮৮ মিনিটে শেরকির ক্রস নিজেদের অর্ধে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে গতিতে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যান ওলিসে। এরপর বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল পাঠান জালে। ওলিসের মুভের সময় দৌড়াচ্ছিলেন জিদানও। গোলের পর সামনে থাকা বলে নেন কিকও! ম্যাচ শেষে তিনি বললেন, ‘ওই মুহূর্তটার অংশ হতে চেয়েছিলাম। ও ড্রিবলিংয়ে নামছে বুঝতে পেরে আমিও ওর পেছনে গেলাম কল্পনায়। হঠাৎ সামনে বল দেখে ভাবলাম লাথি মারা যাক!’



