বিশ্বকাপের বাকি ১১ দিন
‘আমাদের কোনো পেলে বা রোনালদো নেই’

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নেইমারকে নিয়ে হয়েছে একপ্রস্থ নাটক। স্কোয়াড ঘোষণার পর ইনজুরিতে পড়লেও তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে- নেইমারকে নিয়েই ব্রাজিল স্কোয়াডটি কতটা চ্যালেঞ্জিং, কতটা ভীতি জাগানিয়া? ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এ বিষয়ে অকপটে বলেছেন, তার দলে এখন আর অতীতের মতো একাই ম্যাচ জেতানো ‘আইকনিক ফুটবলার’ বা মহাতারকা নেই। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপা জিততে হলে কোনো একজনের ওপর ভরসা না করে পুরো দলকে যৌথভাবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে।
মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় আনচেলত্তি দলগত সংহতির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। আজ বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আনচেলত্তি সংবাদিকদের বলেন, ‘দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দায়িত্ব বেশি নিতে হবে, আর তরুণদের ওপর থেকে চাপ কমাতে হবে। আমাদের সবার ওপরই চাপ ও দায়িত্ব আছে। তবে আমাদের কী করা উচিত? দায়িত্বগুলো ভাগ করে নেওয়া উচিত।’
আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সহজাত সৃজনশীলতা নষ্ট না করে রক্ষণভাগকে আরও নিখুঁত করার দিকেই মূল মনোযোগ দিয়েছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলি ব্রাজিলের এখন কোনো সুপারস্টার নেই। এটা হয়তো সত্যি; আমাদের এখন পেলে, রোমারিও কিংবা রোনালদো (নাজারিও) নেই। কিন্তু আমাদের একটি একতাবদ্ধ দল আছে, যেখানে সবাই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারে।’
কোচ দলগত ফুটবলের কথা বললেও বরাবরের মতোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই নেইমার জুনিয়র। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ শিরোপার মুখ না দেখা ব্রাজিল গত দুই আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে নামার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে সেলেসাওরা। গ্রেড-টু ক্যাফ (পেশি) ইনজুরির কারণে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার এখন বল নিয়ে পুরোদমে অনুশীলনই করতে পারছেন না।
আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নেইমারের এই চোট শুরুর ম্যাচে তার খেলা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি করেছে। এর আগে আনচেলত্তি ঘোষণা দিয়েছিলেন, শতভাগ ফিট না হলে তিনি কোনো খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখবেন না। তবে দলের ১০ নম্বর জার্সির জাদুকরের জন্য সেই কড়া নিয়ম থেকে কিছুটা সরে এসেছেন তিনি। ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা এই অভিজ্ঞ তারকার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন কোচ।
নিজের আগের মন্তব্য পরিষ্কার করে আনচেলত্তি বলেন, ‘মার্চ মাসে আমি বলেছিলাম সবাইকে শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট থাকতে হবে। হয়তো আমি তখন বুঝিয়ে বলতে পারিনি। আমি এমন একজনকে দলে ডাকতেই পারি যে এই মুহূর্তে শতভাগ ফিট নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের আগে ঠিকই ফিট হয়ে উঠবে। আমরা ইতিমধ্যে এদেরসাও (এস্তেভাও), রদ্রিগো এবং মিলিতাওকে হারিয়েছি। তবে আমি নিশ্চিত, বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমারকে আমরা শতভাগ ফিট রূপেই পাব।’








