অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা, ইট-ডিম ছোড়ার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার সোনারপুরে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সফর ঘিরেই কার্যত ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। তৃণমূলের অভিযোগ, আগে থেকেই প্রচুর বিজেপি সমর্থকদের সেখানে জড়ো করা হয়েছিল একটি কমিউনিটি হলে এবং পরিকল্পিতভাবে অভিষেক ও তার কনভয়ের উপর চালানো হয় হামলা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভ শুরু হয় অভিষেকের গাড়ি ঘিরে। ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তার দিকে ডিম, পাথর ও বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয় বলে রয়েছে অভিযোগ। ধস্তাধস্তির মধ্যেই তার চশমা ভেঙে যায় এবং জামা ছিঁড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে তাকে ভিড়ের মধ্য থেকে নিরাপদে বের করে আনেন পুলিশ সদস্যরা। মাথায় আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকায় তাকে একটি হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়। অভিষেকের দাবি, তার চোখের কাছেও ইট লাগে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চেয়েছিল।’ তার অভিযোগ, এটি ছিল বিজেপি-‘স্পনসরড’ হামলা এবং পুরো ঘটনার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।
যদিও হামলার পর অসুস্থ বোধ করায় অভিষেককে প্রথমে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে পৌঁছান তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি, প্রথম হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ এবং আরও ভালো পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কারণেই তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিজে গোটা পরিস্থিতির তদারকি শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে হামলা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। তার অভিযোগ, বাংলায় বিরোধী রাজনীতিকে দমন করতে এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির ভাষ্য, এটি কোনও পরিকল্পিত হামলা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক হিংসার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার ফলই আজ বিভিন্ন পক্ষকে ভোগ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলকেই রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরির জন্য দায়ী করেন।
এছাড়াও হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়েগসহ একাধিক বিরোধী নেতা। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক নেতার উপর শারীরিক আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সাম্প্রতিক ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বাংলার বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বুলডোজার চালানো,সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও খুনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাটিকে নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন করে বিতর্ক।






