নানী ও দুই নাতির লাশ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে মা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ঘর থেকে এক নারী ও তার দুই নাতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরীর তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম ওরফে মেরীকে (৩৫) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন বেবী বেগম (৫৫) এবং তার নাতি শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৭)। মৃত দুই শিশুর বাবার নাম মাসুম বেপারী।
তিনজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বেবী বেগম ও তার দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর আগে নগরীর লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার কাশেম বেপারীর ছেলে মাসুম বেপারীর সঙ্গে ফাতেমা বেগমের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি রফিকুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ফাতেমা তার আগের পক্ষের দুই সন্তান ও মা বেবী বেগমকে নিয়ে বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এ নিয়ে প্রায়ই ফাতেমার সঙ্গে তার বর্তমান স্বামী রফিকুলের ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগেই থাকত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এর জের ধরেই ওই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।‘
তিনি আরও জানিয়েছেন, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে দুই শিশু শামীম ও মুস্তাকিমকে। আর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বেবী বেগমকে। তার মুখ ও মাথায় পাওয়া গেছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন।
বর্তমানে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন ফাতেমা বেগম। তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






