আতলেতিকোর মাঠে হারল রিয়াল

শেষ মুহুর্তে ফিরে আসার নাটকীয়তা দেখানো শুরু করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এবার ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি শেষ পর্যন্ত। আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে ৮৯ মিনিটে ব্যাবধান কমায় তারা। বাকি ৭ মিনিটে আর সমতায় ফিরতে পারেনি। তাই ২-১ গোলের জয় নিয়ে ঘরের মাঠে উৎসব করেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
এই ম্যাচ শেষে ৭ ম্যাচে রিয়াল ৫ জয় ও ২ হারে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমেছে। সমান ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে আতলেতিকো। ৭ ম্যাচের সবকটিতে জয় দিয়ে ২১ পয়েন্ট পাওয়া বার্সেলোনা শীর্ষে।
টানা সাত জয়ে ছুটছে বার্সেলোনা। ওই সাফল্যগুলো পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান মজবুত করার কাজ সহজ করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে। তাই শুধু একটি ড্র’য়ে কোনো উপকারই হওয়ার ছিল না রিয়াল মাদ্রিদ বা আতলেতিকো মাদ্রিদের। তেমনটা হতেও দেয়নি আতলেতিকো। নিজেদের মাঠে রিয়ালকে হারের স্বাদ উপহার দিয়ে নিজেদের পয়েন্ট বাড়িয়েছে দিয়েগো সিমিওনের দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই দুই দলের শক্তির লড়াই দেখা যায়। তাই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য্য আক্রমণ ছিল কম। দুই দল মিলে একে অপরের জালে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছে। আর্দা গুলেরের সেই শট অবশ্য খুব একটা উপকারে আসেনি রিয়ালের।
বিরতির পরপরই মাদ্রিদিস্তাদের বিপদ দ্বিগুণ হয়। একসঙ্গে ১০ জনে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে গোলও হজম করে তারা।
৫০তম মিনিটে ডিন হুইসেন নিজেদের ডি বক্সে ফাউল করেন আতলেতিকোর গিলিয়ানো সিমিওনেকে। পেছন থেকে জার্সি টেনে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় শুরুতে বাঁশি বাজালেও পেনাল্টি ঘোষণা করেননি রেফারি। কিন্তু আতলেতিকো ফুটবলারদের আবেদনে ভিএআর চেক করতে হয়। তখনই পেনাল্টির বাঁশি বাজান এবং লাল কার্ড দেখান ডিন হুইসেনকে।
স্পট কিক থেকে সহজেই বল জালে পাঠান অ্যালেক্সি গ্রিমালদো। জন্মদিনে নিজেকে দারুণ উপহার দিলেন তিনি। ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। রিয়ালের অর্ধে আক্রমণ বাড়িয়ে মাত্র ৬ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারা।
এবারও আতলেতিকোর গোলের যোগান আসে সিমিওনে থেকে। মাঠের ডানপ্রান্ত থেকে সিমিওনের বাড়ানোর ক্রস তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় গোলপোস্টের সামনে থাকা জোনাথনের পায়ে। আলতো টাচে মৌসুমে নিজের প্রথম গোলটি করেন জোনাথন।
৬৫ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পেয়ে যায় আতলেতিকো। এবার অবশ্য ক্লোজ রেঞ্জ থেকে শুরুতে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড ফেরান রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তুয়া। রিবাউন্ড থেকে হুলিয়ান আলভারেজের শট ফাঁকা পোস্টের মাঝে ডিফেন্ডার দাঁড়ানো ইব্রাহিম কোনাতে আরেকবার হেড থেকে ফেরালে তৃতীয় গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় রিয়াল।
এরপর অবশ্য আতলেতিকোর আক্রমণের তেজ কমে। সেই স্বস্তিতে গোল শোধের সাবধানী চেষ্টা করে রিয়াল। তাতে অবশ্য গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ দলটি। ৭৭ মিনিটে দিওমান্ডের জোড়ালে শট আতলেতিকো গোলরক্ষক রুখে দিয়ে ম্যাচে রিয়ালকে চরম হতাশাই উপহার দিতে চলেছিলেন।
কিন্তু রিয়াল সবসময়ই ম্যাচের শেষদিকে চমক দেখায়। সেই চমক উপহার দিয়ে একটি গোল শোধ দেয় তারা। ৮৯ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক নেন বার্নার্ডো সিলভা। তাতে হেড থেকে গোল করেন অ্যান্তোনিও রুডিগার।



