লাল-সবুজে সৌরভের ছোঁয়া

১০ এপ্রিল লিগের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে হারার পর কোচ আলফাজ আহমেদকে সরিয়ে দেয় মোহামেডান। আলফাজের বিদায়টা শাপেবর হয়েছিল সৌরভ দেওয়ানের জন্য। অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিয়েই সৌরভসহ কয়েকজন তরুণে আস্থা রাখেন আলফাজের সহকারী আবদুল কাইয়ুম সেন্টু, ‘আলফাজ ভাই যে কৌশলে খেলাতেন, তার সঙ্গে হয়তো সৌরভ খাপ খায়নি। কিন্তু সে দুই পায়ের ফুটবলার, হেডিংও ভালো। পজিশন সেন্স চমৎকার।’
স্পষ্টতই কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে সৌরভ বড় স্বপ্নের ছবি এঁকেছেন। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার এ মৌসুমে লিগ ও ফেডারেশন কাপে দুই হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ১২ গোল। মৌসুম শেষ করেছেন গত বুধবার ব্রাদার্সের বিপক্ষে অসাধারণ চার গোলে। পরদিন ব্যাগ গুছিয়ে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের ক্যাম্পে। মালদ্বীপে চার জাতি টুর্নামেন্টে সাদা-কালোর ফর্মটা লাল-সবুজে নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে।
গোলের স্রোতে ভেসে তিনি এখন স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি, ‘গোল করতে পারলে সবারই ভালো লাগে। এখন একটি সুযোগ পেয়েছি (মালদ্বীপগামী অলিম্পিক দলে)। সেখানে লক্ষ্য একটাই— খেলব, গোল করব, দেশকে জেতাব।’
২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ লিগে মোহামেডানে খেলার সুযোগ পান। সেই দলের ম্যানেজার ছিলেন দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা জাহিদ হাসান এমিলি। সৌরভকে তখনই মনে ধরে যায় তার। মাঝে বিসিএলে দুই মৌসুম খেলেন ওয়ারী ও ওয়ান্ডারার্সে। ২০২৪ সালে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এক টুর্নামেন্টে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে খেলার সুযোগ পান এমিলির মাধ্যমে।
সেই অপেশাদার আসরটাই সৌরভকে দেয় বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ, ‘সে আসরে ১০ গোল করেছিলাম, যৌথভাবে শীর্ষ গোলদাতা হই। এমিলি ভাই তখন আমাকে মোহামেডানে নিয়ে নকীব ভাইয়ের হাতে তুলে দেন। কিছু ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলেছি ১০-১৫ মিনিট করে। আবাহনীর কাছে হারার পর সেন্টু স্যার নিয়মিত সুযোগ দিয়েছেন।’
ইংলিশ তারকা হ্যারি কেনের অনুসারী সৌরভে মজেছেন এমিলিও। তার বিশ্বাস, ‘ওর মধ্যে গোল করার অন্যরকম আগ্রহ দেখেছি। ও যে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে গোল করেছে, অন্যরা হরহামেশা সেগুলো নষ্ট করে। হেড ও প্লেসিংয়ের মতো দূরপাল্লার শটেও তার গোল আছে। গোলমুখের আশপাশে থাকতে পছন্দ করে, মিডফিল্ডের সঙ্গে লিংক আপ করতে জানে।’
সৌরভে বিশ্বাস রাখা মোহামেডানের অন্তর্বর্তী কোচ সেন্টুর পরামর্শ, ‘ টাকা-পয়সা জীবনে অনেক পাবে। এমন দলে যাও, যেখানে নিয়মিত খেলতে পারো। আর বাড়তি পরিশ্রম করো।’






