ফাইনাল হেরেও মাঠে থেকে নজির গড়ল আর্জেন্টিনা

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনা সমালোচনা ও নানা গুজবের মুখে পড়েছে। তবে সমালোচনার বিপরীতে আর্জেন্টিনার একটি ক্রীড়াসুলভ আচরণও আলোচনায় এসেছে।
স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমো ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমরা বাইরে কী মূল্যবোধ তুলে ধরছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ছেলেমেয়ের কাছে আমরা উদাহরণ। তাই সব ক্ষেত্রেই ভালো উদাহরণ হওয়া উচিত।‘ তার এই মন্তব্যকে অনেকেই লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন বলে মনে করছেন।
তবে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। গলায় রৌপ্যপদক ঝুলিয়ে তারা মাঠেই ছিলেন এবং গ্যালারিতে থাকা নিজেদের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বড় অংশ ছিল মঞ্চের ডান পাশে। ফলে স্পেনের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্ত এবং সমর্থকদের অভিবাদন দুটি একসঙ্গে দেখা সম্ভব ছিল না। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা সে সময় নিজেদের সমর্থকদের প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এ ছাড়া ফিফার কোনো নিয়ম নেই যে রানার্সআপ দলকে প্রতিপক্ষের ট্রফি উদ্যাপন শেষ হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে। চাইলে পদক গ্রহণের পরই তারা মাঠ ছেড়ে যেতে পারে।
গত দুই দশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে রানার্সআপ হয়ে ট্রফি উৎসব শুরুর আগেই মাঠ ছেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর নেদারল্যান্ডস পদক নিয়ে দ্রুত মাঠ ছেড়ে যায়।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে আর্জেন্টিনা পুরো ট্রফি উদ্যাপন শেষ হওয়া পর্যন্ত মারাকানায় অবস্থান করেছিল। ব্রাজিলিয়ান দর্শকদের বিদ্রুপ এবং জার্মানদের উল্লাসের মধ্যেও তারা মাঠ ছাড়েনি। এমনকি ম্যাচের পর জার্মানির গোলদাতা মারিও গোটসে ছবি তুলতে চাইলে চোখে পানি থাকা অবস্থাতেই মেসি তাতে সম্মতি দেন।
২০১৮ সালে ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হেরে ক্রোয়েশিয়াও পদক নিয়ে দ্রুত মাঠ ছেড়ে যায়। একইভাবে ২০২২ সালে লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পর ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা পদক গ্রহণ করেই মাঠ ত্যাগ করেন। ফলে আর্জেন্টিনার শিরোপা উদ্যাপনের সময় ফরাসি দল মাঠে উপস্থিত ছিল না।




