রিয়ালের ১২১ গোলের রেকর্ড ভাঙতে ছুটছে বার্সেলোনা

ছবি: রয়টার্স
জোসে মরিনহোর চোখ থাকে ট্রফিতে। সুন্দর ফুটবল একপাশে সরিয়ে রিয়াল মাদ্রিদেরও দরকার ট্রফি। গত দুই মৌসুম ট্রফিহীন থাকা দলটি তাই দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরিয়ে এনেছে মরিনহোকে। রিয়ালে প্রথম মেয়াদে ২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় অবশ্য একটা রেকর্ড গড়েছিলেন পর্তুগিজ এই কোচ। সেই মৌসুমে রিয়ালের করা ১২১ গোল লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ। ম্যাচ প্রতি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমারা গোল করেছিলেন ৩.১৮ গড়ে।
সেই রেকর্ড ভাঙার পথে দুর্বার গতিতে ছুটছে বার্সেলোনা। সকালের সূর্য দেখে দিনের আভাস পাওয়া গেলে, বার্সেলোনার গোল গড় দেখেও বলা যেতে পারে ১৫ বছর আগের রিয়ালের রেকর্ডটা এখন হুমকিতে।
২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় রিয়াল
ম্যাচ : ৩৮
গোল : ১২১
গড় : ৩.১৮
২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় বার্সা
ম্যাচ : ৬
গোল : ২৮
গড় : ৪.৬৬
বুধবার রেসিং সান্তেন্দরকে ৭-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বার্সেলোনা। তাতে লিগে প্রথম ৬ ম্যাচে তাদের গোল ২৮টি! ম্যাচ প্রতি গোল গড় ৪.৬৬। লিগে টানা ৫ ম্যাচে অন্তত ৫টি করে গোল করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। ২০১১-১২ মৌসুমে প্রথম ৬ ম্যাচে রিয়ালের গোল ছিল ২০টি।
রিয়ালের চেয়ে গোল ও গড়ে এগিয়ে থাকলেও এখনো উন্নতির সুযোগ দেখছেন রাফিনিয়া। রেসিংয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই ব্রাজিলিয়ান ম্যাচ শেষে জানালেন,‘আমাদের ব্যক্তিগত ও দলগত দিক থেকে উন্নতি করা ধরে রাখতে হবে। সব খেলোয়াড়ের মধ্যে আরও ভালো করার, আরও বেশি গোল ও সুযোগ তৈরির ক্ষুধাটা দেখা যাচ্ছে।’
রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি করে গোল করেছেন জোয়াও ক্যানসেলো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও লামিন ইয়ামাল। রেসিংয়ের স্ট্রাইকার এইজের ভিল্লালিব্রে করেন আত্মঘাতী এক গোল।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম ৭ ম্যাচে রেকর্ড ৩৩ গোল করেছে বার্সেলোনা। এই ৭ ম্যাচে রাফিনিয়ার গোল ১১টি (লিগে ৬ ম্যাচে গোল ৯)। ২০১২-১৩ মৌসুমে বার্সার হয়ে প্রথম ৭ ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। ২০১৭-১৮ মৌসুমে মেসি লিগে প্রথম ৬ ম্যাচে করেছিলেন ৯ গোল। এরপর লা লিগায় প্রথম ৬ ম্যাচে রাফিনিয়াই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে করলেন ৯ গোল।
আলো ছড়িয়ে চলেছেন লামিন ইয়ামালও। লা লিগায় ভয়ংকর সুন্দর বার্সার প্রথম ৬ ম্যাচে রাফিনিয়া ও ইয়ামাল মিলে গোল করেছেন ১৬টি (ইয়ামালের গোল ৭টি)। সর্বশেষ ১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়ার হয়ে লিগে জুটি হিসেবে প্রথম ৬ ম্যাচে ১৯ গোল করেছিলেন কাম্পানাল (১২) ও তোরেনতেগুই (৭)। রেকর্ডটা না ভাঙলেও ‘রক অ্যান্ড রোল ফুটবল’ খেলা ইয়ামাল-রাফিনিয়া অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন ক্রমেই।



