নিলামে উঠছে পেলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের জার্সি

সংগৃহীত ছবি
১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে পরা পেলের ঐতিহাসিক নীল জার্সিটি নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামী স্মারকগুলোর একটি হয়ে উঠবে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে ৫-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন পেলে। সেই জয়ের মাধ্যমেই সেলেসাওরা প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে এবং ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি।
নিউইয়র্কে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নিলামে জার্সিটির দাম ৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি উঠতে পারে বলে আশা করছে বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সাদেবিস। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
এর আগে একক ফুটবল স্মারক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচে পরা জার্সি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জার্সিটি ২০২২ সালে ৯.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। এছাড়া ২০২৩ সালে লিওনেল মেসির কাতার বিশ্বকাপে পরা ছয়টি জার্সির সংগ্রহ বিক্রি হয়েছিল ৭.৮ মিলিয়ন ডলারে।
সাদেবিসের স্পোর্টস স্ট্র্যাটেজির ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন হকস বলেন, ‘প্রায় ৭০ বছর পুরোনো হওয়া সত্ত্বেও জার্সিটি অসাধারণ অবস্থায় রয়েছে। এর নীল রঙ এখনো উজ্জ্বল, আর পেছনের হলুদ নম্বরটিও দারুণভাবে সংরক্ষিত।‘
তিনি আরও বলেন, ‘জার্সিটি হাতে নেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে, তা হলো এর আকার। পেলে তখনো কিশোর ছিলেন, শারীরিক গঠনও ছিল ছোটখাটো। ম্যাচের ছবিগুলো দেখলেও বোঝা যায়, জার্সিটি তার গায়েও বেশ আঁটসাঁট ছিল।‘
সেই বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ছয় গোল করেছিলেন পেলে। এখনো পর্যন্ত তিনিই বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার।
ফাইনালের পর নিজের রুমমেট দিদিকে জার্সিটি উপহার দেন পেলে। পরে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এটি দিদির পরিবারের কাছেই ছিল। এরপর ব্রাজিলের ‘মুসেউ দোস এসপোর্তেস এদভালদো আলভেস সান্তা রোসা’ জাদুঘরে দান করা হয় জার্সিটি।
২০০৪ সালে লন্ডনে ক্রিস্টিজের নিলামে এটি ৫৯ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে ক্রীড়া স্মারকের বাজারে ব্যাপক উত্থান ঘটায় এবার সেটির মূল্য প্রায় ১০০ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হকস বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে এই বাজারে বিশাল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ জার্সি এখনো একক ফুটবল জার্সির সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড ধরে রেখেছে, তবে আমরা পেলের এই জার্সিটিকেও একই উচ্চতায় দেখছি।‘
নিজের আত্মজীবনীতে পেলে লিখেছিলেন, ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে নীল জার্সি পরাকে দলের কয়েকজন সতীর্থ ‘অশুভ’ মনে করেছিলেন। তবে দলের প্রধান প্রতিনিধি ড. পাওলো সবাইকে বোঝান যে নীল রঙ সৌভাগ্যের প্রতীক, কারণ এটি ছিল ব্রাজিলের পৃষ্ঠপোষক সন্ত ‘নোসা সেনহোরা দে আপারেসিদা’র রঙ। শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল।




