বকেয়া বেতন নিয়ে রোনালদোর সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জুভেন্টাস

সংগৃহীত ছবি
সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। পর্তুগালের সঙ্গে বিরোধ চলাকালীন আরও এক দুঃসংবাদ পেলেন এই মহাতারকা। তার সঙ্গে বকেয়া বেতন নিয়ে আইনি বিরোধ আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে সাবেক ক্লাব জুভেন্টাস। পর্তুগিজ তারকাকে বকেয়া বেতন বাবদ ৯৮ লাখ ইউরো দেওয়ার রায় বাতিল করতে ইতালির সর্বোচ্চ আপিল আদালতে আবেদন করেছে ক্লাবটি।
ঘটনার শুরু ২০২১ সালে। সে বছর জুভেন্টাস ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন রোনালদো। করোনাভাইরাস মহামারির সময় বেতন পরিশোধ নিয়ে ক্লাবটির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থগিত রাখা বেতন বাবদ রোনালদোকে ১ কোটি ৯৫ লাখ ইউরো দেওয়ার চুক্তি করেছিল জুভেন্টাস।
ক্লাবটির আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তদন্তের সময় ‘রোনালদো লেটার’ নামে পরিচিত ওই গোপন নথি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। মহামারির সময় খেলোয়াড়দের বেতন পরিশোধ নিয়ে জুভেন্টাসের করা বিভিন্ন চুক্তিও তদন্তের আওতায় ছিল।
এ নিয়ে এরই মধ্যে দুটি আইনি লড়াইয়ে রোনালদোর পক্ষে রায় এসেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে সালিশি ট্রাইব্যুনাল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে রায় দেন, রোনালদোকে ৯৮ লাখ ইউরো দিতে হবে জুভেন্টাসকে। এর সঙ্গে যোগ হবে সুদ ও মূল্যস্ফীতির কারণে বাড়তি অর্থ। রোনালদো শুরুতে যে অর্থ দাবি করেছিলেন এই রায়ের পরিমাণ তার প্রায় অর্ধেক।
তবে জুভেন্টাস ইচ্ছাকৃতভাবে রোনালদোকে বিভ্রান্ত করেছিল এমন কোনো প্রমাণ পায়নি ট্রাইব্যুনাল। ২০২১ সালে ইতালি ছাড়ার সময়ও বকেয়া অর্থের দাবি জানাননি রোনালদো—এ বিষয়টিও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল জুভেন্টাস। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তুরিনের শ্রম আদালত সেই আবেদন খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখেন।
ইতালির ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত জানিয়েছে, এবার দেশটির সর্বোচ্চ আপিল আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশনে আবেদন করেছে জুভেন্টাস। ক্লাবটির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ আপিলের আবেদন জমা দেয় তারা। তবে শুনানির দিন এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ইতালির বিচারব্যবস্থায় কোর্ট অব ক্যাসেশন সর্বোচ্চ আপিল আদালত। ফলে এই পর্যায়ে মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে দুই পক্ষকে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে জুভেন্টাস জানিয়েছে, এই রায়ের কারণে যে আর্থিক ব্যয় হবে তা ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকেই ক্লাবের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ নিয়ে বর্তমান বা ভবিষ্যতের আর্থিক প্রতিবেদনে নতুন করে কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়।



