কাতালান সংবাদমাধ্যমের তোপের মুখে মরিনহো

সংগৃহীত ছবি
আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে মাদ্রিদ ডার্বিতে ২-১ গোলে হারের পর রেফারিং নিয়ে হোসে মরিনহোর মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কাতালান সংবাদমাধ্যম। রিয়াল মাদ্রিদের কোচের কথাবার্তার পাশাপাশি দলের মাঠের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
কাতালান দৈনিক স্পোর্ত তাদের প্রথম পাতায় লিখেছে, ‘রেফারিদের হয়রানি করা বন্ধ করুন।’ ম্যাচের পর রেফারি মিগেল আনহেল অর্তিস আরিয়াসের সমালোচনা করায় মরিনহোকে লক্ষ্য করেই এমন মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।
স্পোর্তের মতে, ডার্বির পর রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলের চেয়ে মরিনহোকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। পত্রিকাটি দাবি করেছে, মরিনহো ও তার কোচিং স্টাফ ম্যাচের প্রস্তুতির চেয়ে সংবাদ সম্মেলন সামলাতেই বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছেন। তারা আরও দাবি করছে, ডার্বির পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা মাঠের ফুটবলকে আড়াল করে রেখেছিল মরিনহোকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা।
পত্রিকাটি আরও বলেছে, এই আলোচনার আড়ালে রিয়াল মাদ্রিদের সমস্যাগুলো আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। বরং এমন পরিস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বীদের আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে মুন্দো দেপোর্তিভো রিয়ালের খেলার ধরন নিয়েই বেশি প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সকে তারা হতাশাজনক হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের মতে, রিয়ালকে ধীর ও নিষ্প্রাণ দেখা গিয়েছে এবং আক্রমণে তেমন কোনো ধার ছিল না। দলটি খুব কমই গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়ে খেললেও রিয়ালের পারফরম্যান্সে কিছুটা পরিবর্তন আসে বলে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। তবে তখনও দলের মধ্যে উৎসাহ, আগ্রহ কিংবা জয়ের জন্য শক্ত মানসিকতা দেখা যায়নি। আক্রমণেও ছিল না পরিষ্কার কোনো পরিকল্পনা।
মরিনহোকে রিয়ালের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মুন্দো দেপোর্তিভো। তাদের মতে, পর্তুগিজ কোচকে ফিরিয়ে আনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দলে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে আরও দলকেন্দ্রিক ভূমিকায় আনা।
এদিকে মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে স্পোর্ত। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়ালের দায়িত্বে থাকা মরিনহো এবার ফিরে এসে পরিবর্তনের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু পত্রিকাটির ভাষায়, এখন পর্যন্ত সেই পরিবর্তনের বদলে ক্লাবকে আরেকটি নাটকীয় সিরিজে পরিণত করেছেন তিনি।
ডার্বিতে হারের পরও মরিনহোকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কাতালান সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় রিয়ালের নতুন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।



