প্রতিবাদ
ইসরায়েল ম্যাচ বয়কট করছে আয়ারল্যান্ডের দর্শকরা

ইউরোপিয়ান ফুটবলের এক অভিজাত ম্যাচ, অথচ যার ভেন্যু নিরপেক্ষ দেশ! নেই কোনো অ্যাওয়ে সমর্থক এবং সম্প্রচারেও রাখা হচ্ছে কাটছাঁট। এমন নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ঘিরে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ঢেউয়ে ফুটবল মাঠ এখন এক চরম বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত রবিবার হাঙ্গেরির দেব্রেচেনে ইসরায়েলের বিপক্ষে ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচটি খেলেছে আয়ারল্যান্ড। আর আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার একটি ছোট শহর বাচকা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হবে ‘হোম’ ম্যাচটি। তবে এই ম্যাচগুলো মাঠে গড়ানো নিয়েই ছিল তীব্র অনিশ্চয়তা। ভক্ত, বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক মহলের ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে আয়ারল্যান্ডকে ভোটাভুটি করতে হয়েছিল যে তারা আদৌ এই ম্যাচগুলোতে অংশ নেবে কি না।
নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক বন্ধুত্বের কথা মাথায় রেখে ম্যাচ দুটির জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু বেছে নেওয়া হয়েছে। হাঙ্গেরির সঙ্গে ইসরায়েলের সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় এবং পর্যাপ্ত পুলিশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় সেখানে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) ডাবলিনে ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজন করলে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।সার্বিয়াকেও বেছে নেওয়া হয়েছে মূলত কড়া নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে, কারণ সার্বিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো জুরিচ ইসরায়েলকে তাদের অন্যতম ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ভেন্যু পরিবর্তন করেও বিক্ষোভ থামানো যায়নি। গত সপ্তাহে আইরিশ ক্রীড়াবিদদের ‘আয়ারল্যান্ড স্পোর্টস ফর প্যালেস্টাইন’ গ্রুপের পক্ষ থেকে ম্যাচগুলো বয়কটের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে ১৬০ জনেরও বেশি অ্যাথলেট স্বাক্ষর করেন।
এছাড়া ঘরোয়া লিগের ম্যাচেও আইরিশ ক্লাবের সমর্থকরা এই ম্যাচগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অস্বস্তির কথা স্বীকার করেছেন আইরিশ কোচ হেইমির হ্যালগ্রিমসন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ম্যাচ খেলার অর্থ ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া নয়। কোচ হ্যালগ্রিমসন সাফ জানিয়ে দেন, 'আমরা কোনো গণহত্যা নিয়ে খেলছি না, আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি। আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলছি, ইসরায়েলের সঙ্গে খেলছি না।'তার এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। আইরিশ কোচের মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও বোকামি’ বলে আক্রমণ করেছে তারা। নিরাপত্তা ও বিতর্কের মাত্রা এতটাই তীব্র যে, এই ম্যাচগুলোর কোনো টিকিট আইরিশ সমর্থকদের কাছে বিক্রি করা হয়নি। এমনকি আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই ম্যাচটি সংক্ষিপ্তভাবে সম্প্রচার করবে। এতে কোনো ধারাভাষ্যকার, ফুটবল বিশ্লেষক কিংবা প্রথমার্ধের কোনো বিশ্লেষণ থাকবে না।
উয়েফার কাছে দলগুলোকে ভবিষ্যতে ড্রয়ে আলাদা রাখার অনুরোধ করা হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এফএআই প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল। ফুটবল ডিরেক্টর জন মার্টিন বর্তমান পরিস্থিতিকে সবার জন্য 'একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাঠের ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে গাজার সংঘাত কীভাবে ইউরোপীয় ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে, আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের এই ম্যাচটি তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ।





