ভিনিকে নিয়ে ঘোর সংকটে ব্রাজিল এবং রিয়াল মাদ্রিদ

রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে বর্তমানে ফুটবল পাড়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে নিজের চেহারায় পরিবর্তন আনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হাস্যরস ও অবাস্তব তত্ত্ব। এমনকি অনেকে তাকে ‘ক্লোন’ বলেও দাবি করেছেন। এসবের পেছনে একটাই কারণ- ভিনির ফর্মহীনতা। জাতীয় দল এবং ক্লাবে তার পারফরম্যান্সের গ্রাফ ক্রমেই তলানিতে এসে ঠেকছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মুখের নিচের অংশে সার্জারি করিয়ে সামান্য পরিবর্তন আনেন। তার নতুন রূপ প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে শুরু হয় শোরগোল। অনেকেই তাকে অচেনা বলে মন্তব্য করেন। তবে মাঠের বাইরে এই রূপান্তর যতটা আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তার চেয়েও বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভিনির বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে। বিশ্বকাপে দারুণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিলেও সামগ্রিকভাবে জাতীয় দলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস কখনোই রিয়াল মাদ্রিদের মতো দ্যুতি ছড়াতে পারেননি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির দল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও তার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত নিষ্প্রভ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৫৪ শতাংশ পাস সফলতার হার নিয়ে প্রথমার্ধেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ। খোদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিও স্বীকার করেছেন যে, ভিনিসিয়ুস এখন তার সেরা ফর্মে নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাজে মুহূর্তগুলোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ইন্টারনেটে শুরু হয় অবাস্তব সব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। কেউ কেউ দাবি করেন মাঠে ভিনিসিয়ুস নিজে খেলছেন না, তার বদলে অন্য কেউ খেলছে। যদিও এসব তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তবুও এটি স্পষ্ট যে ভিনিসিয়ুস বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে সেরা অবস্থায় নেই। তার এই দীর্ঘ ফর্মহীনতায় রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপ্পের আগমন ভিনিসিয়ুসের পজিশন এবং খেলার ধরনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এমবাপ্পে দলে আসার পর থেকেই বাঁ প্রান্তে ভিনিসিয়ুসের স্বাধীনভাবে পারফর্ম করায় কিছুটা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা পেনাল্টি কিকসহ দলের প্রধান ফোকাস নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। তাই ভিনিকে অনেকটাই সহায়কের ভূমিকায় মানিয়ে নিতে হচ্ছে। দুই বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের এই বোঝাপড়ার অভাব ক্লাবটির আক্রমণভাগকেও কিছুটা মন্থর করে দিয়েছে।
গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়ানোর জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিল। প্রিমিয়ার লিগে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত রিয়ালেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। কিন্তু বর্তমান ফর্মহীনতা এবং কোচের প্রাগম্যাটিক বা রক্ষণাত্মক ট্যাকটিকস তার সহজাত আক্রমণাত্মক খেলাকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে।
চলতি মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে গোলখরায় ভোগার কারণে বার্নাব্যুর সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয়েছে ভিনিকে। তবে কোচ হোসে মরিনহো প্রকাশ্যেই তার শিষ্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মরিনহো জানিয়েছেন, ভিনিসিয়ুস গোল না পেলেও দলের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করছেন এবং ক্লান্তি সত্ত্বেও নিজের শতভাগ উজাড় করে দিচ্ছেন। ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ে থাকা সেই ভিনিকে ফিরে পেতে হলে তাকে মাঠের ভেতরের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে দ্রুতই।





