নিজের দলকেই ভয় দেখাচ্ছেন ডুলি!

থমাস ডুলি কি হাত তুলে দিয়েছেন টুর্নামেন্টের আগেই!
ফিফা আসিয়ান কাপ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে থমাস ডুলি ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে গেছেন প্রায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের পর্যায়ে! ‘এশিয়ান দলের পক্ষে তাদের হারানো কঠিন’ বলে বাংলাদেশের এ কোচের ধারণা। অথচ আসিয়ান কাপের গত আগস্টে আসিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তাদের ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভিয়েতনাম। এই ইন্দোনেশিয়া গ্রুপ পর্বও টপকাতে পারেনি।
এরপর মালয়েশিয়ার ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের এ আমেরিকান কোচের লক্ষ্য, ‘১-০ গোলে হারা বা ড্র করতে পারলেই আমাদের জন্য সাফল্য হবে।’ অথচ এ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় এবং ড্রয়ের ইতিহাস রয়েছে।
দুটি ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষকে এমন প্রকাণ্ড পরাশক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যেন মাঠে নামার আগেই ডুলি শ্বেতপতাকা উড়িয়ে রাখছেন। তার কথা শুনলে মনে হতে পারে, হারটাই এখানে বাংলাদেশের অবধারিত পরিণতি!
ফিফা আসিয়ান কাপে আজ বেলা ৩টায় বাংলাদেশের অভিষেক হবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। এ ম্যাচ ঘিরে দেশের ফুটবলানুরাগীদের স্বপ্ন থাকবে। কারণ এখনকার বাংলাদেশ ‘বহুজাতিক’ ফুটবল দল, ইংল্যান্ড-ইতালি-ডেনমার্ক-জাপান থেকে আসা সর্বোচ্চ নয়জন প্রবাসী নিয়ে এই দল গেছে ওই টুর্নামেন্ট খেলতে। এরকম ধার-ভারের বাংলাদেশ এখনো কোনো ম্যাচ খেলেনি। বিশেষ করে তিন প্রবাসী ফারহান আলি, শুকি ইতোফুসা, জিদান ইউসুফ আছেন স্কোয়াডে। এই দল কেমন খেলবে, মাঠে না নামা পর্যন্ত কেউ জানে না। তার আগপর্যন্ত সবার ইতিবাচক থাকাটাই সাধারণ নিয়ম।
তা ছাড়া ফুটবল মাঠে লড়াই শুরুর আগে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকাটা যেকোনো দলের জন্য বড় শক্তি। কোচ হিসেবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও র্যাংকিংকে সম্মান জানানো স্বাভাবিক পেশাদারিত্বের অংশ। মালয়েশিয়া ফুটবল শক্তিতে এগিয়ে, সেটাও স্বীকার করতে পারেন। তাই বলে প্রতিপক্ষকে দৈত্য বানিয়ে তোলার চেষ্টাটা কোনো পেশাদার কোচের মধ্যেই দেখা যায় না। বাংলাদেশের আমেরিকান কোচ ডুলি যেন সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ নিচে নামাতে গিয়ে পুরো দলকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছেন। খেলতে নামার আগেই তার ফুটবলাররা হার মেনে নিতে পারে!
অথচ বাংলাদেশ দলে একজন হামজা চৌধুরী আছেন, যার অভিজ্ঞতা আছে ইংলিশ লিগে খেলার। প্রথাগতভাবে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও লাল-সবুজের দলে তিনি বিশাল সম্পদ। খেলেন মাঠ জুড়ে এবং গোল করে ম্যাচও জেতান। এ ফুটবলারই ইন্দোনেশিয়ায় ক্যাম্পে যোগ দিয়ে দুদিন আগে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ কোনো দলকে ভয় পায় না। নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে ভালো করেই জানি।’ তার এ কথায় হুমকির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও আছে। এটাই হলো পেশাদারিত্বের শিক্ষা। কিন্তু খেলোয়াড়দের ওই বিশ্বাসটাই যেন গতকাল তলানিতে নিয়ে গেছেন কোচ। তার আগে প্রাক-মৌসুমের ট্রেনিংয়ে বেশি চাপ দিয়ে হারিয়েছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণকে, হালকা চোট রয়েছে মোরসালিনেরও। আবার নতুন তিন প্রবাসী যোগ হয়েছেন, এর মধ্যে ফারহান আলিকে দেখতে চান ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে। তবে শেষমেশ কী একাদশ সাজাবেন, সেটা খোলাসা করেননি কোচ।
মালয়েশিয়া শক্তিশালী দল, যারা এ বছর আসিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল খেলেছে। তাদের বেশ কয়েকজন ‘ন্যাচারালাইজড’ ফুটবলার রয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে এক ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার; জেডিটি ক্লাবে দীর্ঘদিন খেলার সুবাদে বার্গসন দা সিলভা পেয়েছেন মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব। এতে তাদের ফরোয়ার্ড লাইনের শক্তি বেড়েছে। মালয়েশিয়ান কোচ তান চেং হো চেষ্টা করবেন মাঠে শক্তি প্রদর্শন করতে।
তাদের সেই শক্তিকে আরও উসকে দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। মালয়েশিয়াকে রীতিমতো দৈত্য বানিয়ে তার সামনে ঠেলে দিচ্ছেন নিজের দলকে। কোচ কোথায় অভয় দেবেন তার খেলোয়াড়দের, উল্টো ভয় দেখাচ্ছেন!



