আর্জেন্টিনার এই দল হতাশ করবে না

৬৯ মিনিটে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। ১১৯ সেকেন্ড পরই পেনাল্টি থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে করেন গোল। আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ডও হয় তাতে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচের পর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘চলো এগিয়ে যাই, আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’ ম্যাচ শেষে তিনি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’কেও। তুলে ধরা হলো এর চুম্বক অংশ
প্রশ্ন: চোটের জন্য একটা সময় শঙ্কায় পড়েছিল বিশ্বকাপের শুরু থেকে আপনার খেলা। অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই খেললেন প্রস্তুতি ম্যাচ। কেমন লাগছে?
মেসি: শুরু থেকেই খেলাটা খুব উপভোগ করছিলাম। বেশ কিছুদিন ধরেই চাচ্ছিলাম দ্রুত মাঠে নামতে। যদিও এখানে আসার পর থেকে আমি কিছুটা অস্বস্তিতে (ইনজুরির জন্য) ভুগছিলাম। তবে আমি খুশি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং বরাবরের মতোই রোমাঞ্চ অনুভব করছি। মাঠে নেমে খুব ভালো লেগেছে।
প্রশ্ন: আপনি তো মাঠে নেমে ১১৯ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল করলেন। গোল দিয়ে ফিরতে পেরে খুশি নিশ্চয়ই?
মেসি: আসলে খেলার জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিলাম। অস্বস্তি থাকলে যে ভয়গুলো কাজ করে, তা ঝেড়ে ফেলে একদম মুক্তভাবে খেলতে চেয়েছিলাম। প্রথম ম্যাচের আগে সবাইকে সম্পূর্ণ ফিট ও প্রস্তুত করার জন্য আমাদের হাতে আর মাত্র এক সপ্তাহ সময় আছে। এই সময়ে ফিটনেস আরও ভালো পর্যায়ে যাবে বলেই আশা করছি।
প্রশ্ন: গত বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে দাপটে খেলছে আর্জেন্টিনা। কাতারের দলের ১৭ জন নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন স্কালোনি। আপনাদের দলের যে ধারাবাহিক সাফল্য, তাতে কি কখনো মনে হয়েছে সাফল্যের ক্ষুধার তীব্রতা কিছুটা কমেছে দলের?
মেসি: বরাবরের মতোই যেকোনো টুর্নামেন্ট বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আমরা ভীষণ রোমাঞ্চিত থাকি। আমি আগেও বলেছিলাম, এই দল হতাশ করবে না। তারা এ বছরও যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবং যেকোনো প্রতিযোগিতায় লড়াই করে তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। দলের সবার মধ্যে এখনো সেই একই জেদ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার তীব্রতা আছে।
প্রশ্ন: তাহলে এবারও ফেভারিট ভাবছেন আর্জেন্টিনাকে। আপনার কি মনে হয় এই দল কাতারের শিরোপা ধরে রাখতে পারবে?
মেসি: এটা একটা বিশ্বজয়ী দল। এই দল সবসময় আরও বেশি কিছু পেতে চায়। আমরা সব সময়ের মতোই প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোব। আমাদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর শতভাগ বিশ্বাস আছে। এর সঙ্গে আছে শিরোপা জয়ের প্রবল ইচ্ছা ও আত্মপ্রত্যয়।
প্রশ্ন: এবারের বিশ্বকাপের পর অবসর নেবেন অনেকে। তাদের ভালো কিছু উপহার দিতে তরুণ খেলোয়াড়রা মুখিয়ে আছেন নিশ্চয়ই?
মেসি: এই দলটি সবকিছুই নিজেদের যোগ্যতায় অর্জন করেছে। আমরা আমাদের আগের মতোই চেষ্টা চালিয়ে যাব, যেন সাধারণ মানুষ অন্তত এটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়ব। ঠিক যেমনটা আমরা সবসময় করে এসেছি আর দীর্ঘ সময় ধরে করে আসছি। জাতীয় দলের হয়ে আমি যতদিন খেলেছি, আমরা সবসময় এটাই করার চেষ্টা করেছি। এই দলে অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশ্রণও বেশ ভালো। সবাই নিজেদের নিংড়ে দিয়েই খেলবে।
প্রশ্ন: দল ভালো হলেও বিশ্বকাপ জিততে তো ভাগ্যও লাগে।
মেসি: হ্যাঁ, কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। তবে আমরা ভাগ্যবান যে সম্প্রতি ইতিবাচক ফল পেয়েছি। কাজটা কঠিন এবং দিন দিন এটি আরও কঠিন হয়ে উঠছে, তবে আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি এবং দেশের মানুষকেও অভ্যস্ত করে তুলেছি। আমরা আবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করব (বিশ্বকাপ জেতা)। এখন বাকিটা হতেও পারে, না-ও হতে পারে। কারণ, এটাই ফুটবল।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনা এবার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও আরও অনেক দল আর্জেন্টিনাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি।
মেসি: এ নিয়ে কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে আমাদের হারানো প্রতিপক্ষের জন্য অনেক কঠিন হতে হবে। কারণ, আমরা খুবই প্রতিযোগিতামূলক দল।




