ফিফার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইনফান্তিনোর উপদেষ্টার পদত্যাগ

সংগৃহীত ছবি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রস্তাবের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। আজই পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এই পরিকল্পনাকে ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি বলে আখ্যা দেন।
ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মালিকানা বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। এ উদ্যোগে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা রয়েছে জশুয়া কুশনারের। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই।
এক বিবৃতিতে কর্দেইরো বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই প্রস্তাব তৈরির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছি। এটি ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্য খারাপ চুক্তি, ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর।’
২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপকে ঘিরে গঠিত হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি ছিলেন কর্দেইরো। সাবেক এই ব্যাংকার ও ইউএস সকার ফেডারেশনের সাবেক সহসভাপতিকে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করার জন্যই ইনফান্তিনো নিয়োগ দিয়েছিলেন।
নিজের বিবৃতিতে কর্দেইরো প্রশ্ন তোলেন বিপুল পরিমাণ অর্থের রিজার্ভ এবং কোনো ঋণ না থাকা সত্ত্বেও ফিফা কেন তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি অংশ বিক্রি করে মাত্র ৪২০ কোটি (৪.২ বিলিয়ন) ডলার সংগ্রহ করতে চাইছে।
তার এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো, যখন ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থাকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিতর্কিত প্রস্তাবটি নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে বলা হয়েছে। ইনফান্তিনো এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তাবটি গ্রহণ না করলে সদস্য সংস্থাগুলো পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
২০২১ সালে ইনফান্তিনোর নিয়োগ পাওয়া কর্দেইরো বলেন, ‘কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই ফিফা ফুটবলের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখছে। ফিফা সভাপতি নিজেই ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমান আর্থিক সামর্থ্য দিয়েই সদস্য সংস্থাগুলোকে আরও বেশি সহায়তা করা সম্ভব।‘




