অদ্ভুত নিয়ম
পাঁচ হলুদ কার্ড দেখেও কেন নিষিদ্ধ নন মেসি?

ফুটবলের সাধারণ নিয়মে পাঁচ ম্যাচে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখা মানেই পরবর্তী ম্যাচে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা। তবে লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে এবার তা খাটছে না! পাঁচ-পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখা সত্ত্বেও কোনো প্রকার শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামতে পারছেন দলটির আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর পেছনে আছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) শৃঙ্খলার অদ্ভুত এক নীতি।
সিনসিনাটির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-২ গোলে ড্র করা রোমাঞ্চকর ম্যাচটিতে ৪৪তম মিনিটে ফাউল করে বসেছিলেন মেসি। প্রতিপক্ষের স্যামুয়েল গুইডিকে ফাউল করায় রেফারি আর্মান্দো ভিয়ারিয়াল তাকে তাৎক্ষণিক হলুদ কার্ড দেখান। রেফারির এই সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে নিজের অসন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন মায়ামি অধিনায়ক। এই ম্যাচের আগে চলতি মৌসুমে কলোরাডো র্যাপিডস, অরল্যান্ডো সিটি, ন্যাশভিল এবং আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষেও হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মেসি।
সব মিলিয়ে সিনসিনাটির বিপক্ষে দেখা কার্ডটি ছিল মৌসুমে মেসির পঞ্চম হলুদ কার্ড। কিন্তু এমএলএসে হলুদ কার্ড জমা হওয়ার নিয়মে একটি বিশেষ সুযোগ দেওয়া আছে, যাকে বলা হয় ‘গুড বিহেভিয়ার পলিসি’। টানা কয়েক ম্যাচে যেসব ফুটবলার শৃঙ্খলা বজায় রেখে ফুটবল খেলেন, তাদের পুরস্কৃত করতেই এই ব্যবস্থা চালু রেখেছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
নিয়মটি বেশ সহজ—কোনো খেলোয়াড় যদি টানা ৫টি বা তার বেশি ম্যাচে কোনো হলুদ বা লাল কার্ড না দেখে মাঠে খেলেন, তবে তার আগের জমে থাকা হলুদ কার্ডের তালিকা থেকে একটি কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ বা কেটে নেওয়া হয়। একজন ফুটবলার পুরো মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩ বার এই সুবিধা ভোগ করতে পারেন। ইন্টার মায়ামি অধিনায়কের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি দুবার কার্যকর হয়েছে।
এর আগে অরল্যান্ডো সিটি এবং ন্যাশভিলের বিপক্ষে পাওয়া হলুদ কার্ড দুটির মাঝে তিনি টানা ৫টি ম্যাচ কোনো কার্ড ছাড়া খেলেছেন। আবার ন্যাশভিল ও আটলান্টার বিপক্ষে কার্ড পাওয়ার মাঝখানে টানা ১০টি ম্যাচে তিনি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলেছেন। আগে দেখা দুটি হলুদ কার্ড তার নামের পাশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুছে দেওয়া হয়েছে। ফলে এমএলএসের খাতায় মেসির জমে থাকা হলুদ কার্ডের সংখ্যা এখন মাত্র ৩টি!
কার্ডের তথ্য হালনাগাদ হওয়ায় আগামী রবিবার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে এমএলএসের ৩৩তম রাউন্ডের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা থাকছে না মেসির। সমর্থকরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, কারণ লিগের শেষ মুহূর্তের ম্যাচগুলোতে দলের সেরা তারকাকে পূর্ণ শক্তিতে পাচ্ছে ইন্টার মায়ামি।





