সিরি আ
প্রথম গোল করে আলোচনায় স্বৈরশাসক মুসোলিনির প্রপৌত্র

ফুটবল মাঠে যেকোনো খেলোয়াড়ের প্রথম গোল সবসময়ই বিশেষ মুহূর্ত। তবে ইতালির শীর্ষ ফুটবল লিগ সিরি আ-তে সেই গোলটি যখন ইতালির সাবেক ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির প্রপৌত্র রোমানো ফ্লোরিয়ানি মুসোলিনির পা থেকে আসে, তখন তা বিশ্ব ফুটবলের শিরোনামে পরিণত হওয়াই স্বাভাবিক। ল্যাজিওর হয়ে ইতালিয়ান ফুটবলের শীর্ষ স্তরে নিজের প্রথম গোল উপহার দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই রাইট-ব্যাক।
মঙ্গলবার রাতে সাসৌলোর বিপক্ষে ৬-২ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে ল্যাজিও। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১৬তম মিনিটে গোলটি করেন ফ্লোরিয়ানি মুসোলিনি। শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজানো হলেও ভিএআর রিভিউ দেখে রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তার এই গোলেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় গেন্নারো গাত্তুসোর শিষ্যরা। জোড়া গোল করেন টিজ্জানি নোসলিন। ৯ ম্যাচে ৮ জয় ও ১ ড্রয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ল্যাজিও।
১৯২২ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ইতালি শাসন করা ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির প্রপৌত্র হলেন এই রোমানো ফ্লোরিয়ানি মুসোলিনি। ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই ঐতিহাসিক নামের কারণে তার ওপর সংবাদমাধ্যমের আলাদা নজর ছিল। এমনকী দর্শকদের দুয়োও জুটেছে। তার মা আলেসান্দ্রা মুসোলিনি একজন সাবেক অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ। তার প্রপিতামহী বিশ্বখ্যাত ইতালিয়ান অভিনেত্রী সোফিয়া লরেন।
২০০৩ সালের ২৭ জানুয়ারি রোমে জন্মগ্রহণ করা ফ্লোরিয়ানি মুসোলিনির ফুটবলের শুরুটা হয়েছিল এএস রোমার যুব একাডেমিতে। তবে ২০১৬ সালে তিনি সিটি রাইভাল ল্যাজিওর একাডেমিতে যোগ দেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পেসকারা ও ইউভে স্তাবিয়ায় ধারে খেলার পর ২০২৫ সালে ক্রেমোনেসে গিয়ে সিরি আ-তে অভিষেক হয় তার। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে ল্যাজিওতে ফিরে এসে মূল একাদশে নিজের জায়গা পোক্ত করছেন।
পরিবারের পদবির কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কিছুটা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে এই তরুণ ডিফেন্ডারকে। মাঠে সমর্থকদের স্লোগান এবং কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বিতর্কে তার নাম টানা হলেও ফ্লোরিয়ানি মুসোলিনি সবসময়ই রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এই ডিফেন্ডার বারবার বলেছেন, তিনি কেবল ফুটবলেই মনোযোগ দিতে চান। এমনকি নিজের জার্সির পেছনে পুরো পদবি ব্যবহার না করে কেবল নিজের প্রথম নাম ‘রোমানো’ লিখে মাঠে নামেন।





