নাগাতোমোর পঞ্চম

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়া জায়ান্ট জাপানের বিশ্বকাপ শুরু হবে রবিবার রাতে। এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে দলটির ৩৯ বছর বয়সী ফুলব্যাক নাগাতোমো ইউতোর নাম উঠবে ইতিহাসের পাতায়। এশীয় অঞ্চলে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়বেন নাগাতোমো। সাবেক ইন্টার মিলান ডিফেন্ডারের জন্য এ এক অন্যরকম অনুভূতি। রেকর্ডটি তিনি রঙিন করতে চান দেশকে দারুণ কিছু উপহার দিতে।
সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা এশিয়ানের রেকর্ডটা এতদিন নাগাতোমো ভাগ করে নিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান কোচ ও সাবেক ডিফেন্ডার হং মিউং-বোর সঙ্গে। নাগাতোমোর শুরুটা ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে।
জাপান দলে নাগাতোমোর ভূমিকা স্রেফ একজন ফুটবলার নয়, দলের বড় অনুপ্রেরণাও। ইতালি, তুরস্ক, ফ্রান্সের মতো বড় দেশগুলোর বাঘা বাঘা সব ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাগাতোমো নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান মনে করেন, ‘এটি আমার পঞ্চম বিশ্বকাপ। কিন্তু আমার মনে হয় এর আগে আমি কখনো এত নার্ভাস হইনি। দলে সুযোগ পেয়ে আমি সবার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ। আমি সত্যিই আমার পরিবার, এফসি টোকিও, কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করছি। তাদের ছাড়া আমি এতদূর আসতে পারতাম না।’
দল ঘোষণার পরপরই নিজের নাম শুনতে পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন এ ফুলব্যাক। তার ক্লাব এফসি টোকিও একটি ভিডিও পোস্ট করেছিল তাদের সোশ্যাল হ্যান্ডলে। সেখানে দেখা যায়, একা একা দল ঘোষণা দেখার পর নাগাতোমো কেঁদে ফেলছেন। এই খবরটি যেমন একদিকে মানুষের সহানুভূতি ও সাধুবাদ কুড়িয়েছে, তেমনি আবার সামুরাই ব্লু সমর্থকের একাংশ সমালোচনামুখরও হয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, বয়সের কারণে মাঠে অবদান রাখার মতো ক্ষমতা তার নেই।
চার সন্তানের জনক নাগাতোমোর বয়স আগামী সেপ্টেম্বরে ৪০ বছর পূর্ণ হবে। তবে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, এখনো তিনি বেশ শক্ত-সমর্থ এবং জাপানের অন্যতম সেরা ফিট ফুটবলারদের একজন। ফিটনেস ধরে রাখতে কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলেন তিনি।
ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে মাঠ কাঁপানো পারফরম্যান্সে নাগাতোমোকে ইন্টার মিলানের মূল দলে জায়গা করে দিয়েছিল এবং তিনি হাভিয়ের জানেত্তির সহ-অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সে সময় রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো তাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও ইন্তারের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।


