রোনালদোর মা
পর্তুগিজরা আমার ছেলেকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি

পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্বের জেরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হঠাৎ ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার মা দোলোরেস আবেইরো। ‘টিভি সেভেন ডিয়াস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কষ্ট ও হতাশার কথা খোলামেলাভাবে বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে পর্তুগিজ জনগণের একাংশের বিরুদ্ধে ‘কৃতঘ্নতা’ ও পর্যাপ্ত সম্মান না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দোলোরেস।
ক্যাম্প ছেড়ে রোনালদো চলে যাওয়ার আগের মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণা করে দোলোরেস বললেন, ঘটনার পর তিনি চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তার ভাষায়, “সে আমাকে ফোন করে বলেছিল- ‘মা, চিন্তা করো না, সবাই একসঙ্গে হলে আমি সত্যটা প্রকাশ করে দেব।’ তখন আমি তাকে বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে বাবা, সবকিছু ঠিকঠাক করে নাও।’ আমি তাকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মন যা চেয়েছে সে সেটিই করেছে। আমি তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি, যদিও শেষ পর্যন্ত তা কোনো কাজে আসেনি।’
ছেলের প্রতি পর্তুগালবাসীর আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দোলোরেস বললেন, ক্রিস্তিয়ানো বরাবরই দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে সে কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাচ্ছে না। তিনি বললেন, ‘সব ঠিক আছে, সে পর্তুগালের জন্য অনেক কিছু দিয়েছে এবং সে কারণেই সে সবসময় দেশটির হৃদয়ে থাকবে। সে সবসময় পর্তুগালের হিরো। কিন্তু ওরা তাকে প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছে না। ক্রিস্তিয়ানোকে কেউ মূল্যায়ন করে না। আমাদের পর্তুগিজ সমাজটাই আসলে এমন।’
ছেলের এই আকস্মিক ও বিতর্কিত প্রস্থানকে রূপক অর্থে ‘পেছন দরজা দিয়ে প্রস্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দোলোরেস। তবে তিনি আশাবাদী যে সময়ের সঙ্গে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আক্ষেপ করে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদোর মা বললেন, ‘আমার খুব খারাপ লাগছে, আর সেটিই স্বাভাবিক। এটি সত্যিই একটা বড় ধাক্কা ছিল। আমার ছেলে চাইলে সামনে দিয়ে রাজকীয়ভাবে বিদায় নিতে পারত, কিন্তু সে ছোট্ট একটা দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। ঠিক আছে, ঈশ্বর সব ঠিক করে দেবেন।’




