বিরল অর্জনের হাতছানি দেশমের

‘নামটা একই থাকে, শুধু পাশে দুটি শব্দ বসে চিরদিনের জন্য। বিশ্বকাপ বিজয়ী’, এভাবেই বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় লাভটা কী, তা ফিফাকে জানিয়েছেন দিদিয়ের দেশম। ফ্রান্সের সাবেক ফুটবলার ও জাতীয় দলের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম পৃথিবীর একমাত্র জীবিত মানুষ, যার খেলোয়াড় এবং কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে। এই বিরল তালিকায় নাম আছে মারিও জাগালো ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারেরও। ২০২৪ সালে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে না ফেরার দেশে চলে যান দুই কিংবদন্তি। দেশম তাই পৃথিবীর একমাত্র মানুষ, যার পক্ষে বলা সম্ভব খেলোয়াড় এবং কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতাটা কেমন।
ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশম বলছিলেন, ‘আমি শুধু আজ আর আগামীকাল নিয়ে ভাবি, সত্যি বলতে এর চেয়ে বেশি কিছু নিয়ে ভাবার কোনো মানে হয় না। সামনে যা আছে আমার মনোযোগ সেদিকেই।’
বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ফ্রান্সের এই সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে যা হয়েছে (খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ ও কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়), সেসব তো সবসময়ই আমার সঙ্গে আছে। অতীত তো আর বদল হবে না। এখন কথা হচ্ছে, আমরা আগামীতে কী করব। আমি দুই সময়েই দলের সঙ্গে ছিলাম, হয়তো আমার ভূমিকা আলাদা ছিল, তবে দুবারই অনুভূতিটা জাদুকরী।’ মার্সেই ও জুভেন্টাসের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অভিজ্ঞতাও আছে দেশমের। অনেকেই বলেন, বিশ্বকাপের চেয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাটা অনেক কঠিন, তবে দেশম মনে করেন বিশ্বকাপ শিরোপাই বড় অর্জন, ‘আমার ক্লাব পর্যায়ে বেশ কিছু শিরোপা জেতারও সৌভাগ্য হয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছি। তবে বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতির মতো আর কোনো কিছু হয় না। বিশ্বকাপ জিতলে বাবা-মায়ের দেওয়া নামটা একই থাকে, শুধু পাশে একজোড়া শব্দ বসে, বিশ্বকাপজয়ী।’
বিশ্বকাপ জিতলে বাবা-মায়ের দেওয়া নামটা একই থাকে, শুধু পাশে একজোড়া শব্দ বসে, বিশ্বকাপজয়ী
২০২৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্স যদি ফাইনালে ওঠে, তাহলে আরও বিরল কিছু অর্জন যোগ হবে দেশমের খাতায়। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিনিধিত্ব করার দুর্লভ সুযোগ হবে তার, আর ফ্রান্স যদি জিতেই যায়, তাহলে কোচ হিসেবে দুবার আর খেলোয়াড় হিসেবে একবার বিশ্বকাপ জেতার অদ্বিতীয় রেকর্ডের অধিকারী হয়ে যাবেন। ফ্রান্স কি পারবে এবার? জবাবে দেশম বলেছেন, ‘আমাদের খেলার ফলই আমাদের ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছি, ২০২২ সালে রানার্সআপ হয়েছি, খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমর্থকরা চাইবেন জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আমরাই যেন বিজয়মঞ্চে থাকি। বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা সেই ১০-১২টি দেশের একটি, যারা জোর গলায় বলতে পারে, আমাদের পক্ষে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত একটি দেশই জিততে পারে বাকি ১১টি দেশকে হতাশ করে।’
আবারও বিশ্বকাপ জিততে হলে ফ্রান্সকে প্রথমে পার করতে হবে গ্রুপ পর্বের বাধা, যেখানে আছে নরওয়ের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ। চমকে দিতে পারে ইরাকও, তবে সবার আগে দেখা হবে সেনেগালের সঙ্গে। সেই সেনেগাল, যারা ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবেই ফ্রান্সের সঙ্গে সেনেগালের একটি সম্পর্ক আছে, সেনেগালের অনেক খেলোয়াড়ই ফরাসি লিগে খেলেন। দুই দেশের ঔপনিবেশিক সম্পর্ক, অভিবাসন ও ফুটবল-সংক্রান্ত আন্তঃযোগাযোগ ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স-সেনেগাল দ্বৈরথকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে। দেশম অতীত নিয়ে না ভেবে সেনেগালের এখনকার শক্তিমত্তাকেই বড় করে দেখছেন, ‘আমার দলে যারা খেলছে এখন, সেই সময় (২০০২) তাদের অনেকে বোধহয় জন্মায়ওনি, কিংবা
জন্মালেও বোঝার বয়স হয়নি। সেসব এখন অতীত ইতিহাস হয়ে গেছে। এখন নতুন অধ্যায়ের শুরু, সেনেগাল আফ্রিকার সেরা ফুটবল দলগুলোর একটি।’




