সান মারিনো মিশনে ডুলির দল

সংগৃহীত ছবি
ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে রোববার দুপুরে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। নতুন কোচ থমাস ডুলির এটি প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে এই ভ্রমনটা দীর্ঘই হবে দলের জন্য। ইথিওপিয়া হয়ে তারা প্রথমে যাবে ইতালির রোমে। সেখান থেকে সড়ক পথে প্রায় ছয় ঘন্টা যাত্রার পর দল পৌঁছাবে সান মারিনোতে। যেখানে ৬ জুন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের তলানীর দলটির সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। যে যাত্রাটিকে আগে থেকেই ঐতিহাসিক বলে আসছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
ইউরোপে প্রথম খেলার অভিজ্ঞতা মিলবে এই সফরে। তবে প্রতিপক্ষ সান মারিনো বলেই থাকছে প্রশ্ন। একে তো বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সান মারিনো পিছিয়ে পাক্কা ৩০ ধাপ। বাংলাদেশ ১৮১তে, সান মারিনো ২১১। তবে র্যাঙ্কিং দিয়ে দু’দলের তুলনা করলেই সর্বনাশ। সান মারিনো র্যাঙ্কিংয়ের সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও তারা নিয়মিত ইউরোপের বড় বড় দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ পায়। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান নেশনস লিগে নিয়মিত খেলার সুবাদে তাদের বড় পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা অনেক। তবে বেশিরভাগ সময় ফলাফল নিজের পক্ষে আসে না বলেই র্যাঙ্কিংয়ে তারা পিছিয়ে। শক্তিমত্তায় তাদেরকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই।
অর্থাৎ এ ম্যাচটা বাংলাদেশ খেলবে অনেক ঝুঁকি নিয়ে। জিতলে র্যাঙ্কিংয়ে খুব বেশি উন্নতির সুযোগ নেই। তবে জিততে না পারলে বড়সড় পতনের মুখে পড়তে হবে থমাস ডুলির দলকে। অথচ নতুন কোচ দায়িত্ব নিয়েই বলেছিলেন, বাংলাদেশের র্যাঙ্কিংয়ের বড়সড় উন্নতি ঘটাতে চান।
বাফুফে অবশ্য ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ পেয়েই খুশি। তাদের চিন্তায় এতকিছু নেই। এত গভীরে ভাবছেন না ফুটবলাররাও। দীর্ঘ যাত্রার আগে বিমানবন্দরে এই ম্যাচের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক তপু বর্মণ, ‘তারা (সান মারিনো) র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও তাদের অনেক ফুটবলার ইউরোপে খেলে। আবার তারা ইউরোপিয়ান দলগুলোর সঙ্গে খেলে। আমরা তাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করব।’
হাভিয়ের কাবরেরার জমানায় দলে সুযোগ পেলেও যথেষ্ট খেলার সুযোগ পাননি কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার কাজেম শাহ। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখছেন তিনি, ‘আগের কোচের চেয়ে একটু পার্থক্য তো রয়েছেই। সে ট্যাকটিস নিয়ে বেশি কাজ করে। পাসিং ফুটবল পছন্দ করে এবং ফুটবলারদের সাথে সহজেই মিশতে যানে। আর স্বাধীনতা একটু বেশি দেন।’
সান মারিনো যাত্রার আগে চার সেশনে শিষ্যদের পরখ করেছেন কোচ ডুলি। ২ জুন সান মারিনোর পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে সাক্ষাত হবে হামজা চৌধুরী, সামিত শোম, জায়ান আহমেদের, যারা নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি যাচ্ছেন। দলের সঙ্গে শুরু থেকে তারা না থাকাটা বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তপু, ‘তারা দেরিতে আসায় কোনো সমস্যা হবে না। এক বছর আমরা এক সঙ্গে খেলছি। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া বেশ ভালো।’
ঝুঁকি যতই থাকুক, এ ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের। অনেক দিন আগেই ম্যাচের সব টিকিট বিক্রির খবরেই বোঝা যায়, ইউরোপের অচেনা দেশে গিয়েও একটা চেনা আবহ পাবেন হামজারা।






