হৃদয় এখন টেস্টের জন্য প্রস্তুত

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে গত মঙ্গলবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। রংধনুর দেশে দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল ‘এ’ দল, যেই দলে ছিলেন নাঈম শেখ, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়ের মতো ওয়ানডে দলের নিয়মিত ক্রিকেটাররা। আসছে বছর দক্ষিণ আফ্রিকাতেই হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচ, তার আগে এই বছরের শেষে আছে জাতীয় দলের তিন সংস্করণেরই সিরিজ। ‘এ’ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশে আসা রাজিন সালেহ আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা অনেক কাজে দেবে ব্যাটারদের।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অধুনা বিলুপ্ত সিলেট স্ট্রাইকার্স দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন রাজিন সালেহ, যে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ তাওহীদ হৃদয়। সিলেটের হয়ে সেই মৌসুমে ৪০৩ রান করেছিলেন হৃদয়, বলা যায়, বিপিএলের সেই মৌসুমটাই তাকে নিয়ে এসেছিল লাইমলাইটে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও হৃদয় কোচ হিসেবে পেয়েছেন রাজিনকে, দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৫০ রানের ইনিংস খেলার পর হৃদয় রাজিনকে বলেছেন লাকি কোচ! আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপে রাজিন বললেন, ‘হৃদয় আমাকে বলেছে, আমি তার জন্য লাকি কোচ, আমি কোচ থাকলেই সে রান করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমিই তাকে বেশি কোচিং করিয়েছি। তিন বছর আগের সেই হৃদয় থেকে সে এখন অনেক বেশি পরিণত।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে হৃদয়ের এ ব্যাটিংটাই বড় প্রাপ্তি মনে করেন রাজিন, ‘হৃদয় খুব ভালো ব্যাটিং করেছে, জাকের আলি অনিকও খুব ভালো টাচে আছে, নাঈম শেষ ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি করেছে, সাইফ হাসানও ভালো ফর্মে আছে। ব্যাটারদের জন্য এই ট্যুরটা খুব ভালো হয়েছে। তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হবে, তার একটা ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, বলতে পারব এরকম একটা ইনিংসের সাক্ষী ছিলাম আমরা। হৃদয় খুব অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছে। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ খুব ভালো ছিল, তারা ভালো জায়গায় বল করেছে। তাদের বিপক্ষে প্রায় তিন দিন ব্যাটিং করেছে হৃদয়, এটা কম বড় কৃতিত্ব নয়। সে যে ধৈর্যটা দেখিয়েছে, সেটি অতুলনীয়।’
সাদা বলের ক্রিকেটেই হৃদয় বেশি খেলেছেন জাতীয় দলে, এ বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হলেও নতুন অধ্যায়ের সূচনায় খুব একটা ভালো করেননি। রাজিন মনে করেন, ‘নিয়মিত সুযোগ দিলে হৃদয় টেস্ট দলেও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার। টেস্টে যদিও তিন নম্বর ব্যাটারের ভূমিকা অনেক দেশেই বদলে যাচ্ছে, তবে আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশ দলের জন্য হৃদয় চারে বা পাঁচে অনেক বেশি উপযুক্ত। মুশফিকুর রহিম যখন খেলা ছাড়বে, তখন তার জায়গায় আমাদের একজন উপযুক্ত বিকল্প দরকার। হৃদয় সেই জায়গাটি নিতে পারে।’



