অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ
ডারউইনের উইকেট নিয়ে হান্নান-ইমরুলরা কী বলছেন

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের সেরা রান সংগ্রাহক ছিলেন হান্নান সরকার। (বামে) সিডনিতে মাইনর লিগ ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি কোচিং করাচ্ছেন ইমরুল কায়েস। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাটিং হতাশা কন্ডিশনের সঙ্গে ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার ব্যর্থতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা অবশ্য আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে যোগ হবে না, কিন্তু এই ইনিংস যে উদ্বেগের কারণ হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।
২০০৩ সালের সেই সফরের সঙ্গে এবারের সফরের ব্যবধান এত দীর্ঘ যে, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অবকাঠামো থেকে শুরু করে পিচ তৈরির ধরন— অনেক কিছুই বদলে গেছে। বদলায়নি শুধু বাংলাদেশ ব্যাটারদের জন্য এই পিচে খেলার চ্যালেঞ্জ।
ডারউইনে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম টেস্ট। যেখানে উইকেটের আচরণ বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য কঠিন, বল কখনো প্রত্যাশার চেয়ে একটু বেশি ওঠে, কখনো নিচু হয়ে আসে। ব্যাটারদের জন্য এ ধরনের উইকেটে শট খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
এমনটাই বলছেন আগেরবার এ মাঠে টেস্ট খেলা ব্যাটার হান্নান সরকার। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সফরের অভিজ্ঞতা টেনে সেই কথা মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
সেবার ওই মাঠে প্রথম ইনিংসে ৯৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে হাবিবুল বাশারের ৫৪ রান না থাকলে দলীয় সংগ্রহ ১৭৮ হওয়া কঠিন ছিল। সেই পিচ এশিয়ান কন্ডিশনের মতো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’। হান্নানের ব্যাখ্যা, ‘ডারউইনের পিচগুলোয় আনইভেন বাউন্স হয়। যেটা ব্যাটারদের জন্য কঠিন। অনেকটা এশিয়ান কন্ডিশনের উইকেটগুলোর মতো। তবে ট্রু বাউন্স থাকলে ব্যাটারদের জন্য সুবিধা হয়। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় যে টেস্ট হয়েছিল সেখানে (কেয়ার্নস) ট্রু বাউন্স ছিল। তাই সেখানে ব্যাটিং ডারউইনের চেয়ে কম চ্যালেঞ্জের ছিল। তবে ওই সিরিজেও ডারউইন চ্যালেঞ্জিং উইকেট ছিল। এখনো একই রকম উইকেট হতে পারে।’
২০০৩ সালের সফরে দ্বিতীয় টেস্ট হয়েছিল কেয়ার্নসে। ডারউইনে ব্যর্থ হান্নান পরের টেস্টে দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন— প্রথম ইনিংসে ৭৬, পরের ইনিংসে ৫৫।
তবে ২৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অবকাঠামো ও পিচ তৈরির ধরনও বদলেছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইমরুল কায়েস সরাসরি এত দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তন নিয়ে তুলনা করতে চাননি। তবে অস্ট্রেলিয়ার পিচ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে দিয়েছেন একটি ধারণা।
ইমরুলের মতে, ‘ডারউইনে আমি কখনো খেলিনি। সেখানকার উইকেট ঠিক কেমন আচরণ করে তা বলতে পারছি না। তবে ডারউইনে এখন ক্রিকেট মৌসুমের শেষের দিক। সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার মূল যে ভেন্যুগুলো সেগুলো সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ থেকে ক্রিকেটের জন্য তৈরি হয়। এই সময় মূল ভেন্যুগুলোতে পিচ তৈরির কাজ চলছে। ওদের পিচগুলো তিন রকম হয়। প্রি সিজন পিচ, মিড সিজন পিচ এবং সিজনের শেষদিকের পিচ। মৌসুম শুরুর পিচগুলোতে ময়েশ্চার বেশি থাকে। বোলারদের জন্য সুবিধা বেশি হয়। পর্যায়ক্রমে সেখানে ব্যাটিং একটু সহজ হয়।’
ডারউইনে ড্রপ ইন পিচ ব্যবহৃত হয়। ক্রিকটীয় ধারণা মতে, এই রকম পিচগুলো সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হয়। কিন্তু বিপরীত ধারণাও আছে। ২০২৩ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ড্রপ ইন পিচ ব্যবহার করা হয় নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে। ওই পিচে ব্যাটারদের রান করার সংগ্রামের কারণে খুব সমালোচনা হয়। তাতে স্পষ্ট ড্রপ ইন পিচ সবসময় রান উর্বরা হবে এমন নয়।
ডারউইনের মারার ওভালে এবার বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন একজন স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়েছেন একজন পেসার। তাই মূল টেস্টে কেমন পিচ থাকছে তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ বাংলাদেশ ব্যাটিং শিবিরে। প্রশ্ন তাই উঠতেই পারে—ডারউইনের পিচের বাউন্স ও আচরণ কি নাজমুল হোসেন শান্তদের ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার অন্যতম কারণ?
কারণ, সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট বেশ ভালো করেছে। ব্যাটারদের ব্যক্তিগত সাফল্য এবং দলীয় ইনিংসেও এসেছে ধারাবাহিকতা। সেই দলই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে হঠাৎ ৫৪ রানে থেমে যাওয়া চরম হতাশার।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে টেস্টের ভবিষ্যৎ লেখা যায় না। বরং এই ম্যাচ থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে ডারউইনের কন্ডিশন সম্পর্কে জেনে যাওয়া। ট্রু বাউন্স না পাওয়া উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হবে, শরীরের কাছাকাছি ওঠা বল কীভাবে সামলাতে হবে— এসবের উত্তর খুঁজে নিতে হবে টেস্ট শুরুর আগেই।
কারণ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা প্রস্তুতি ম্যাচে নয়, মূল টেস্ট সিরিজ।




