মিরপুর টেস্ট সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন নাঈম !

মিরপুর টেস্টে নাঈম হাসানের সঙ্গে জাকের আলির ব্যাটে তাকিয়ে বাংলাদেশ। ছবি: মোশারফ হোসেন
তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে স্বস্তির কিছুই ছিল না। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় আবারও চাপে পড়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে পরিণত হয়েছে ৭৯ রানে ৬ উইকেটে। লিড দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০৬ রানের। ম্যাচ জয়ে তাই তৈরি হয়েছে বড় শঙ্কা। তবে দিনের শেষে বাংলাদেশের আশার আলো হয়ে আছেন নাঈম হাসান ও জাকের আলী। দুজনই ১৮ রানে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিনের অপেক্ষায়।
অথচ এই টেস্টে জাকের আলীর খেলারই কথা ছিল না। মুমিনুল হকের কনকাশন সাব হিসেবে শেষ পর্যন্ত একাদশে এসে এখন তার ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ। আর অন্য প্রান্তে দলের একজন বোলার নাঈম হাসান। ব্যাটিংয়ে এই দুজনের জুটিই এখন বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার শেষ বড় ভরসা।
তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফেরানোর সমীকরণটা কঠিন। এমন অবস্থায় নাঈমের কণ্ঠে যেমন আত্মবিশ্বাস, তেমনি বারবার ফিরে এসেছে সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাসের কথাও। তার কথায়, বাংলাদেশকে শুধু লড়াই করে যেতে হবে, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।
‘দেখেন, আসলে আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান দিতে পারি। আল্লাহর রহমতে এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি। আমরা যদি লম্বা খেলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি চান, তাহলে যত বেশি রান দিতে পারব, ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে ইনশাআল্লাহ খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।’
বাংলাদেশ কি এই ম্যাচ জিততে পারবে—এমন প্রশ্নেও নাঈমের উত্তর, ‘ইনশাআল্লাহ। আমরা যদি ভালো সংগ্রহ দিতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব।’
প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুষিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৫০ রানের মধ্যে আটকে রেখে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনাও দেখছেন এই অফ স্পিনার। নাঈমের বিশ্বাস, ‘আমাদের তো উইকেট আছে। ইনশাআল্লাহ আমরা ট্রাই তো করব, যত বেশি পারি। আমরা যত বেশি রান করতে পারব, ততই তো আমাদের জন্য ভালো।’
তবে নিজের ও জাকেরের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন নাঈম। চতুর্থ দিনের শুরুতে এই জুটিই যে বাংলাদেশের ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, সেটিই যেন মনে করিয়ে দিলেন তিনি, ‘আপনারা বিশ্বাস করেন, আমরা যাতে—আমি আর জাকের ভাই যাতে বড় ইনিংস খেলতে পারি। প্রত্যেকদিন তো সবাই ভালো খেলে না। এবার সুযোগটা আমাদের কাছে আসছে। ইনশাআল্লাহ যদি আমরা ভালো কাজে লাগাতে পারি, তাহলে বড় দলগুলো এই জায়গা থেকে ব্যাক করে। ইনশাআল্লাহ আমি আর জাকের ভাই চেষ্টা করব আমরা ব্যাক করার জন্য।’
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতার পেছনে দিনের শেষভাগের আলো-স্বল্পতার প্রভাবও দেখছেন নাঈম। তার মতে, ‘আর যখন ব্যাটিং করতে গিয়েছে শান্ত ভাইরা, তখন কিন্তু আন্ডার লাইট। আন্ডার লাইটে কিন্তু বল দুই রকম হচ্ছিল। সোজাও যাচ্ছিল, ঘুরতেও ছিল। তো ওই জায়গায় আমরা হয়তো একটু আরেকটু ভালো ব্যাটিং করার দরকার ছিল। ওই জায়গা থেকে ওটা হয় নাই। ইনশাআল্লাহ আমরা ব্যাক করব। ব্যাক করলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
মিরপুর টেস্টে তাই বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের গল্পটা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এমন এক জুটির ওপর, যার একজনের এই ম্যাচে খেলারই কথা ছিল না, আর অন্যজন মূলত দলের বোলার। নাঈমের বিশ্বাস, দুজনের ব্যাটে বড় রান এলে এখনও বদলে যেতে পারে ম্যাচের চিত্র। আর সেই লড়াইয়ে ভরসা রাখছেন নিজেরা, পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার ওপরও।



