সাংবাদিকদের এলজিইডির সার্ভেয়ার
‘আপনারা বিতর্ক তৈরি করতে এসেছেন’

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এলজিইডির নারী কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে ‘আপনারা বিতর্ক তৈরি করার জন্য এসেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ।
আজ বৃহস্পতিবার নোহালী ইউনিয়ন পরিষদে নারী কর্মী নিয়োগের লটারি চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
‘আগামীর সময়’র হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পারভেজ মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা বিতর্ক তৈরি করার জন্য এখানে এসেছেন।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, আপনি সমাজের দর্পণ, কিন্তু আপনি বিতর্কিত করার চেষ্টা করতেছেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক প্রথম খবরের উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল আলীম প্রামাণিক, দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি নির্মল চন্দ্র রায় এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি বাবুলসহ কয়েকজন সাংবাদিক।
সাংবাদিক আব্দুল আলীম প্রামাণিক ‘আগামীর সময়’-কে বলেন, ‘একজন প্রশাসনিক কর্মচারীর কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা আশা করিনি। সাংবাদিকেরা জনস্বার্থে প্রশ্ন করেন। তাঁদের প্রশ্নকে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেওয়া দুঃখজনক।’
সাংবাদিক নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, ‘সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরির অভিযোগ তোলা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ করবেন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় নারী কর্মী নিয়োগের লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র দুটি ওয়ার্ডে মাইকিং করে প্রচার চালানো হয়েছে। প্রচারে বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪০ বছর উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪৫ বছর বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ছাড়া লটারিতে নির্বাচিত ১০ জনের মধ্যে একই ওয়ার্ডের চারজনের নাম এসেছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই অবগত ছিলেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবে অনেক যোগ্য নারী নিয়োগের বিষয়ে জানতে পারেননি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লটারি বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ‘নারী কর্মী নিয়োগের পুরো কার্যক্রম এলজিইডি আয়োজন করেছে। নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরই দায়িত্ব পালন করেছে।’
নিয়োগ কার্যক্রমে উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া, কমিউনিটি অর্গানাইজার মো. ফিরোজ মামুন এবং সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে পারভেজ মাহমুদ ‘আগামীর সময়’-কে বলেন, ‘আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী সড়কের আশপাশের লোক নির্বাচন করতে হবে। উনি সব ওয়ার্ড থেকে (নদীর ওপারের) লোক নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তখন আমি বলেছি, আপনি বিতর্কিত করার চেষ্টা করতেছেন। এটা খারাপ বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বলে আমি মনে করি না। আর উনার সঙ্গে আমার পূর্বপরিচয়ও নেই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানালের সঙ্গে ‘আগামীর সময়’র প্রতিনিধি একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।




